গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় রাতের শিফটে কর্মরত এক নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল শুরুর আগে শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালের দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় ব্লু প্ল্যানেট গ্রুপের মালিকানাধীন কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন, কারখানা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,'গত বুধবার রাতে কালার এন্ড কোং লিমিটেড কারখানায় কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া শ্রমিক লিজা আক্তারের স্মরণে শনিবার সকালে কারখানার ভেতরে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড এবং পাশের বদর স্পিনিং মিলস-এর শ্রমিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানায় জড়ো হতে থাকে। এসময় নিহত শ্রমিকের দাবি দাওয়া ও পরিবার নিয়ে শোকের কথাবার্তা চলে। এসময় কারখানার ওইসব স্টাফদের নিয়েও মন্তব্য আসে। সবমিলিয়ে তর্কবির্তক হয়। একপর্যায়ে কারখানার সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ উপস্থিত হয়।
কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার শ্রমিক প্রতিনিধি রবিউল হুসাইন বলেন, 'মিলাদে অংশ নিতে বদর স্পিনিং মিলসের শ্রমিকরা এলে তাঁদের সঙ্গে কয়েকজন অপরিচিত যোগ দেন। তারা লাঠিসোটা নিয়ে কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপরই সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
কারখানার শ্রমিক আসাদ বলেন, 'শ্রমিকদের সঙ্গে অপরিচিত লোকজন এসে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। গতকাল ও আজ যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রকৃত শ্রমিকরা করেনি।”
পুলিশ জানায়,' সকালে গেটের সামনে জড়ো হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে কয়েকজন শ্রমিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এসময় কারখানার বাইরে থাকা শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়ায়। তাদেরকে শান্ত করতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এসময় ভেতরেও কিছু শ্রমিক ছিল। সেখানেও শিল্প পুলিশ ছিল। পরে বেলা ১১টার পর থেকেই শ্রমিকরা ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করেন। শ্রমিকদের সাথে কথা বলে আগামী ২দিন কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে মালিক পক্ষ। কারখানা খোলা হলে যথারীতি সময়ে অফিস চলবে। আর যেসকল স্টাফ সম্পর্কে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন তদন্ত করে তাদেরকে শাস্তি দিবেন বলে মালিক পক্ষ নিশ্চিত করেছেন। এরপর সাড়ে ১১টার দিকে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম যায়যায়দিনকে বলেন,' ওই কারখানার মালিকের প্রতি শ্রমিকদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা ছিল। শুধুমাত্র কয়েকজন স্টাফদের আচরণ নিয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল। আমরা উভয়ের সাথে কথা মিলমিশ কয়ে দিয়েছি। এরআগে, সকালে শ্রমিকরা কারখানায় আসার সময় কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পুলিশের কৌশলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও বলেন,'নারী শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক ৩টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে কারখানা ভাংচুরের ঘটনায় ২ মামলায় ইতোমধ্যে ২জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।'
শিল্প পুলিশ-২-এর গাজীপুরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন,' শ্রমিকদের সাথে মিলে একটি অংশ উত্তেজনা শুরু করেছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। দুপুরের আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।'