জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষককে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ নাকচ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ। শনিবার দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
এর আগে শুক্রবার একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হারুনুর রশিদ তাঁকে জুতা দিয়ে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন।
শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হারুনুর রশিদ। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে হারুনুর রশিদ বলেন, গত ২১ জুন বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সময় প্রধানশিক্ষক ঘুষের বিনিময়ে প্রস্তাবিত দুইজন বিদ্যোৎসাহী সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং যুবলীগ নেতা আতিকুর রহমানকে সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানশিক্ষক তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং হুমকি দেন। একপর্যায়ে প্রধানশিক্ষক ও তাঁর ভাই তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তিনি দাবি করেন, প্রধানশিক্ষককে মারধর করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ঘটনায় তিনি নিজেও আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমান। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হারুনুর রশিদ তাঁকে জুতাপেটা করেন। ঘটনার পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং ২২ জুন আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
প্রধানশিক্ষকের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে বিভিন্নভাবে আপস-মীমাংসার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, কোনো যুবলীগ নেতাকে সভাপতি করার চেষ্টা করা হয়নি। বরং আওয়ামী লীগের এক পদধারী নেতাকে সভাপতি করার জন্য তাঁর ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় এখন তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধানশিক্ষককে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রধানশিক্ষক। শুক্রবার তিনি সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপি হারুনুর রশিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।