ঢাকা | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১, আহত অবস্থায় আটক ২

author
কয়রা খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২৬ সকাল ১১:১৬
ad003
খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে কথিত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের সঙ্গে কয়েক দফা বন্দুকযুদ্ধের পর একজন নিহত হয়েছেন এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত নৌযানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে টানা দুই দিন খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ানের সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কথিত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা ওই এলাকায় অবস্থান করছে। পরে অভিযান পরিচালনার সময় দস্যুদের বহনকারী দুটি নৌযান শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা। তাদের থামার সংকেত দেওয়া হলে নৌকায় থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে দস্যুদের একটি নৌযানে আগুন ধরে যায় এবং অপর নৌযানটি ডুবে যায়।

বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ছয়টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে কোস্ট গার্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি ও বনজীবীদের জিম্মি করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রবিউল ইসলাম ও শওকত সরদারকে উদ্ধার করা হয়। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বন্দুকযুদ্ধের সময় পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের আটকের লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ইসরাফিল হাওলাদার নামে আরেকজনকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকেও চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত শওকত সরদার (৫৫) খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। অপর আটক ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ জব্দ করে কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শওকত সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। পাশাপাশি দস্যুদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT