ঢাকা | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেভাগা আন্দোলনের নেতা হাজী মোহাম্মাদ দানেশের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

author
হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৮ জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৭
ad003
আজ ২৮ জুন (রবিবার) ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পক্ষ থেকে দিনাজপুরের গোড়-এ- শহীদ বড় ময়াদানে তার সমাধিতে কবর জিয়ারত ও বাদ জোহর হাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ ১৯০০ সালের ২৭ শে জুন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার সুলতানপুর গ্রামে এক জোতদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেতাবগঞ্জ থেকে প্রবেশিকা, রাজশাহী কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাস করেন। পরবর্তীতে ভারতের উত্তর প্রদেশে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ এবং আইনে বিএল ডিগ্রী লাভ করেন। ঠাকুরগাঁও আদালতে প্রথম আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবনে শুরু করেন।

এই মহান নেতার নামানুসারে ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর স্নাতক পর্যায়ে হাজী মোহাম্মাদ দানেশ কৃষি কলেজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে হাবিপ্রবি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

উপমহাদেশের এই সংগ্রামী নেতা সম্পর্কে হাবিপ্রবি'র উপাচার্য অধ্যাপক ড.এম.এনামউল্যা বলেন,"হাজী মোহাম্মদ দানেশ ছিলেন শোষিত, বঞ্চিত কৃষক শ্রেণি ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ। তৎকালীন সময়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও তিনি ছিলেন অতি সাধারণ ও সাদা মনের মানুষ। তাঁর জীবন ছিল ত্যাগ, সততা ও দেশপ্রেমের আদর্শের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শাসক শ্রেণির জাঁতাকলে পিষ্ট অধিকার বঞ্চিত কৃষক শ্রেণি এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় ও কল্যাণে তাঁর আপোষহীন সংগ্রাম ও নেতৃত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর মহান আদর্শ ও কর্মময় জীবন আমাদের নতুন প্রজন্মকে নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা যোগাবে এবং জাতি চিরদিন এ বরেণ্য মহাপুরুষকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আজকের এই দিনে আমি তাঁর নামাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আহ্বান জানাই, আসুন, এই মহান নেতার আদর্শকে ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করি।"

উল্লেখ্য, কৃষক বর্গা চাষী, ভাগ চাষী এবং প্রান্তিক চাষীদের ওপর জমিদার ও জোতদারের সীমাহীন অত্যাচার দেখে, শিশু বয়সে হাজী মোহাম্মদ দানেশের চিন্তায় বিপ্লব ঘটে। তিনি ছাত্র জীবনেই কৃষকের উপর অত্যাচারের প্রতিকারকল্পে কৃষক আন্দোলনে আকৃষ্ট হন। হাজী দানেশ ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গ-সংগঠন কৃষক সমিতির সাথে সম্পৃক্ত হন এবং কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন। 

কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ (তেভাগা) কৃষকের এবং এক ভাগ জমির মালিকের এই ন্যায্য দাবিতে তিনি উত্তরবঙ্গে (মূলত দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে) তীব্র কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর দেওয়া "জান দেব তো ধান দেব না" স্লোগানটি সেসময় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তার নেতৃত্বে দিনাজপুর জেলায় টোল আদায় বন্ধ ও জমিদারি উচ্ছেদের দাবিতে কৃষক আন্দোলন জোরদার হয় এবং আন্দোলনকালে তিনি কারাভোগ করেন। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT