ঢাকা | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপসিয়ায় তীব্র লোডশেডিং ও তীব্র খরতাপ: বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসায় ধস

author
কাপসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৯
ad003
গাজীপুরের কাপসিয়া উপজেলাজুড়ে একদিকে আকাশছোঁয়া তাপমাত্রা ও রোদের তীব্র খরতাপ, অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। দিন-রাতের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকায় কাপসিয়ার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ এখন চরমে।

রোদের খরতাপ ও লোডশেডিংয়ের দ্বিমুখী মার গত কয়েকদিন ধরে কাপসিয়ায় চলছে তীব্র দাবদাহ। সকাল গড়াতেই সূর্যের প্রখর উত্তাপে ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠছে। মাঠ-ঘাটে খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী—সবাই গরমে হাঁপিয়ে উঠছেন। এই তীব্র খরতাপের মাঝে ঘরের ভেতরে একটু স্বস্তির জন্য ফ্যান ছাড়ার উপায় নেই; কারণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর তীব্র গরমে ও মশার উপদ্রবে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কাপসিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লোডশেডিং ও তীব্র গরমের কারণে বাজারে ক্রেতা সমাগম একেবারেই কমে গেছে।

কাপসিয়া বাজারের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এমনিতেই রোদের খরতাপে মানুষ বাজারে আসছে না, তার ওপর দোকানে এক ফোঁটা বিদ্যুৎ থাকে না। কাস্টমার এসে গরমে টিকতে না পেরে চলে যায়। ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইপিএস-ও চার্জ হওয়ার সময় পাচ্ছে না। এভাবে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দেই, অথচ সেবার নামে পাচ্ছি শুধু ভোগান্তি।"

অন্যান্য কম্পিউটার অপারেটর, টেইলার্স ও কাপড়ের দোকানদারদের অভিযোগ জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে দোকান সচল রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

 এদিকে আগামী ২রা জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে এস,এস,সি ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাতলোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এই তীব্র গরমে স্কুল-কলেজে ক্লাস করা যেমন কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তেমনি রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় টেবিল ল্যাম্প বা মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকরা বলছেন, গরম আর লোডশেডিংয়ের এই দ্বিমুখী অত্যাচারে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না।


বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বরাবরের মতোই জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়ার অজুহাত দেন। চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বড় ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়েই এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে জানিয়ে তারা গ্রাহকদের সাময়িক এই দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
তবে কাপসিয়ার সচেতন মহল ও সাধারণ গ্রাহকদের দাবি—অতি দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না করা হলে এই তীব্র খরতাপে জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT