ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরশুরামে নজীর বিহীন বিদ্যুৎ বিল, বাড়ছে গ্রাহক হয়রানি

author
পরশুরাম (ফেনী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৫
ad003
একেতো তীব্র লোডশেডিং তার উপরে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে নাকাল ফেনীর পরশুরামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। ভূতুড়ে ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পোহাচ্ছেন তারা।
‎
‎জুন মাসে কোনো কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক বিল আসায় গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মিটারের রিডিংয়ের সাথে বিলের কাগজের কোনো মিল না থাকায় একে 'গ্রাহক হয়রানি' ও 'পকেট কাটার ফন্দি' বলে অভিহিত করছেন ভুক্তভোগীরা।
‎
‎জানা যায়, পরশুরাম পৌরসভার সলিয়া গ্রামের আবাসিক গ্রাহক নুর রহমান মুরাদ চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন ৫৪০ ইউনিট। অথচ অলৌকিকভাবে শুধু জুন মাসেই তার বিল এসেছে ৪৩০ ইউনিটের।

‎এর মধ্যে মার্চে ব্যবহৃত ইউনিট ১৬০ ইউনিট, বিল ১২০০ টাকা,এপ্রিলে ব্যবহৃত ইউনিট ১৭০,বিল ১২৭৬ টাকা,মে মাসে ব্যবহৃত ইউনিট ২১০, বিল ১৫৮২ টাকা। মে মাসে ব্যবহৃত ইউনিটের তুলনায় জুন মাসে বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয় প্রায় চারগুণ বেশি। ‎জুন মাসে ব্যবহৃত ইউনিট দেখানো হয় ৪৩০।

বিল আসে ৫৮১২ টাকা।পরশুরাম কলেজ রোডের পাশে তিন মাস আগে মিটার কেটে নেয় অফিস। কিন্তু ঐ মিটার চলন্ত আছে বলে ২৬০০ টাকা বিল পৌঁছায় বাসায়। দুই সাটারে একটি দোকান চার বন্ধ রয়েছে। তা-ও ৫৮৫০ টাকা বিল দিয়েছে অফিস থেকে।
‎
‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঘরে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যোগ হয়নি, গরমের তীব্রতাও আগের মাসগুলোর মতোই ছিল। তাহলে তিন মাসের সমান বিল কীভাবে এক মাসে আসে? এটা পরিষ্কার জালিয়াতি।

হাসপাতাল মোড়ে পরশুরাম ক্লিনিকে পাশে মজিবুর রহমান জানান,জুন ক্লোজিং চলছে। কোম্পানি কে লাভ দেখানোর জন্য এসব অনিয়ম চলছে। 
‎
‎জানা গেছে,উপজেলার মির্জানগর, চিথলিয়া,বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। অধিকাংশ গ্রাহকের জুন মাসে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল এসেছে। গত মাসের তুলনায় কোন কোন গ্রাহকের ২ থেকে ৪ গুন পর্যন্ত বিল ‎তৈরি করে দেয়া হয়েছে। ভূক্তভোগী গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএমের কাছে এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
‎
‎শুধু একজন গ্রাহকই নন, হাজার হাজার গ্রাহকের একই অভিযোগ। অনেকের মিটারের বর্তমান রিডিংয়ের চেয়ে বিলের কাগজে অগ্রিম রিডিং লিখে রাখা হয়েছে।
‎
‎পৌরসভার ছয়ঘরিয়ার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান,গত মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল ১৪০০ টাকা,জুন মাসে বিল এসেছে ২৮৯০ টাকা।এত বাড়তি বিল কিভাবে আসে? পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানানোর পরেও কোন সদুত্তর পাইনি।তিনি বলেন, মিটার রিডারদের গাফিলতি ও তদারকির অভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
‎
‎তীব্র লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ভুতুড়ে বিলের মারপ্যাঁচে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় সচেতন মহল ‘বিল জালিয়াতি’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎পরশুরাম পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু.সুহেল আখতার জানান, বেশ কিছু অভিযোগ আসার পর সেগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। মিটার রিডিংয়ে কোন সমস্যা পাওয়া যায়নি। জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও তীব্র গরমের কারণে বিল বেশি এসেছে তিনি দাবি করেন
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT