ঢাকা | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি খাস জমিতে নালা নির্মাণে বাধা, যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৪১
ad003
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি গ্রামে সরকারি খাস (হালট) জমিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালা মিয়া পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট দখল করে রাখার কারণে ওই এলাকার বিল ও ফসলি জমির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গুতুরা-আমবাড়ী সড়কের পলাশহাটি গ্রামের শামছুর পুকুরপাড় সংলগ্ন ব্রিজ থেকে রোজ আলীর বাড়ি পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি নালা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ শুরু হলে সরকারি জমি দখল করে রাখা আনোয়ার হোসেন জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং নালা নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করেন। এতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে পলাশহাটি গ্রামের শাহীন শেখ বিজয় উল্লেখ করেন, নালা নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় গত ২৮ জুন দুপুরে তার বাবা সাহাব উদ্দিনের ওপর আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা হামলা চালান। এতে সাহাব উদ্দিন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক শেখ শামীম বলেন, “জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজে গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা। সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দার আহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষকদের স্বার্থে সরকারি নালা নির্মাণকাজ দ্রুত ও বাধাহীনভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।”

কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পলাশহাটি মৌজার ৫৫ নম্বর দাগে ৪৬ শতক জমি সরকারি হালট হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। ওই জমিতে সরকারের মালিকানা রয়েছে। আনোয়ার হোসেন ওরফে কালা মিয়া সেখানে মাটি ভরাট ও বসতঘর নির্মাণের মাধ্যমে সরকারি জমি বেদখলের চেষ্টা করছেন।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মিকাইল ইসলাম বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারি জমি খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা অমান্য করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন ওরফে কালা মিয়া বলেন, “ওই হালটটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে রয়েছে। সেখানে খাল বা নালা করার কোনো প্রয়োজন নেই। নালা করা হলে আমাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কোনো অবস্থাতেই সেখানে নালা খনন করতে দেব না। আমরা জায়গাটি যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতে চাই। প্রয়োজনে এর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করব।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি জমি দখলমুক্ত করে নালা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের দুর্ভোগ ও ফসলহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT