ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরশুরামে মির্জানগরে বেহাল গ্রামীণ সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

author
পরশুরাম (ফেনী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৬
ad003
পরশুরাম উপজেলা মির্জানগর ইউনিয়নে উত্তর কাউতলী, দক্ষিণ কাউতলী কাশিনগর সহ প্রায় ৫ টি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের জোয়ার থাকলে গত ১৮ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নাই এই সড়কে।

দক্ষিণ কাউতলী চৌরাস্তা থেকে উত্তর দিকে চম্পক নগর দারুণ আরকাম মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কটি কাঁচা থাকায় চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ।

সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়ক গুলো প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ কে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। ক্ষতি গ্রস্থ সিএনজি ও টমটম গাড়ির মালিকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়ক গুলোর কোনো সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড়ো ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে বাড়ছে।

বর্ষা মৌসুমে শুরুতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ২৪ শে বন্যায় বৃষ্টির পানিতে সড়ক গেলে কাদা ও জলবদ্ধতার কারণে ভ্যান,অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সিএনজি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় উত্তর কাউতলী গ্রামের মাদ্রাসা রোড।সেখানে বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হয় কাদা। যা চলাচলে সৃষ্টি হয় বাধা।কয়েকবার স্থানীয়রা নিজ উদ্যেগে সংস্কার করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন উদ্যোগ নেই। স্থানীয়রা কয়েকবার অভিযোগ করলেও নেই কোন প্রতিকার।নির্বাচিত মেম্বার, চেয়ারম্যান না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে আহাকার। কোথায় গেলে পাবে রাস্তা সংস্কারের সুব্যবহার। এটা নিয়ে স্থানীয়রা রয়েছে চিন্তায়।সে ঝুঁকি পূর্ণ রাস্তায় দিয়ে প্রতিদিন নারী,শিশু, বৃদ্ধ, রোগী, মাদ্রাসা ও প্রাইমারী শিক্ষার্থীরা চলাচল করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মির্জানগর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের অবস্থা ৯০% একই রকম। কোথাও মাটি ধসে গেছে, কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের অস্তিত্বই প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার পথে।

চম্পক নগর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন জানান, আমাদের গ্রামে রাস্তার অবস্থা এতোটাই খারাপ যে আমরা নিজেরাই মাটি দিয়ে সংস্কার করছি। কিন্তু বহুবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান আমাদের ওয়ার্ডে রাস্তা এতো খারাপ হওয়ার একটি কারণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের ও মেম্বারে মাঝে বিরোধ ছিল। সে কারণে সাবেক চেয়ারম্যান আমাদের ওয়ার্ডে কোন কাজ বরাদ্দ দেয় নি। উপর থেকে বরাদ্দ দিলেনও নয়ছয় করে কাজের বরাদ্দ কেটে নেয়। যাতে মেম্বারের মান সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক জানান, সামান্য বৃষ্টি তেই রাস্তা অচল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে স্কুলে আসে।আবার অনেকে আসে না। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

ইউনিয়নে নিয়োগকৃত প্রাশাসক উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, বেশির ভাগই সড়ক জরাজীর্ণ আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেক গুলো রাস্তার কাজ করছি।স্থানীয় লোকজন কে বলেন রাস্তার ছবি সহ একটি দরখাস্ত করার জন্য আমি সরেজমিনে ঘুরে দেখে আসব।যদি সংস্কার করার উপযোগী হয়। আগামীতে বরাদ্দ আসবে প্রথমে এই সড়ক সংস্কার করার জন্য চেষ্টা করব। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT