ঢাকা | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে ছাত্রদল

author
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬ দুপুর ৩:০৫
ad003
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশাসনিক ভবনের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে দিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য তালাবদ্ধ থাকবে বলে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে তারা। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে তালা খোলে দেয়া হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে কলেজে অবস্থান করছে পুলিশ।

তালা লাগিয়ে দেওয়া নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনছুর আলমগীর কলেজের অভ্যন্তরে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তারা ভুয়া বিল ভাউচার করে কলেজ ফান্ড থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাজিব হোসেন ও ওসি সাইফুল ইসলাম এর মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার এর আন্দোলন স্থগিত করেন। আন্দোলনকারীরা বুধবার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা রয়েছে । 

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিদ আহসান চৌধুরী নাহিদ এর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জনের একটি দল প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক শর্বরী দেব এর কাছে মিলাদ, অরিয়েন্টেশন সহ বিভিন্ন ব্যয়ের হিসাব দেখতে চান। কিন্তু তিনি তাদের সামনে অধ্যক্ষকে ফোনে বিষয়টি জানালে অধ্যক্ষ হিসাব দেখাতে নিষেধ করেন। এতে নেতাকর্মীরা শর্বরী দেবের টেবিল চাপড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে আন্দোলনকারীরা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তাকে পাননি। এসময় অধ্যক্ষের কক্ষে ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো. আব্দুল মালিক ও রসায়ন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান রফি উদ্দিন বসা ছিলেন। তারাও একাধিবার অধ্যক্ষকে ফোন করে কক্ষে এসে আন্দোলনকারীদের কথা শুনার অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীরা শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভবনে রেখেই তালাবদ্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর আবারো তালা খুলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বের করে প্রশাসনিক ভবনের কলাপসিবল গেট আবারো তালাবদ্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিদ আহসান চৌধুরী নাহিদ বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা মিলাদ, অরিয়েন্টেশন সহ কয়েকটি বিলের ভাউচার দেখতে চাইলে আমাদেরকে দেখানো হয়নি। অধ্যক্ষ নানা টালবাহানা করেন। এক পর্যায়ে আমরা প্রশাসনিক ভবনে প্রধান সহকারী’র কাছে গেলে তিনি অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানান। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। 

প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক শর্বরী দেব বলেন, আমার কাছে তারা হিসাব দেখতে চাইলে আমি অধ্যক্ষ স্যারের অনুমতি লাগবে বলি। তাৎক্ষনিক বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারকে জানালে তিনি দেখাতে অনুমতি দেননি। পরে তারা অধ্যক্ষ স্যারের কক্ষে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে। আমাদের ভিতরে রেখেই তারা ভবন তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে আবার তালা খুলে আমাদের বেরিয়ে যেতে বলে। আমরা বেরিয়ে গেলে তারা আবারো তালা লাগিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, ছাত্রদল নেতাদের এমন কান্ডে আমরা বিব্রত। তারাতো কলেজের হিসাব দেখার কথা নয়। তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনছুর আলমগীর বলেন, "অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে কলেজের ৭জন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারীকে বাদ দেয়া হয়। কলেজের ছাত্রদলের নেতারা তাদেরকে পূণরায় নিয়োগ দেয়ার জন্য চাপসৃষ্টি করেন। কিন্তু এটা সম্ভব হয়নি। এঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পরবর্তীতে ছাত্রনেতারা অনিয়মের অভিযোগ তোলে। যা সম্পন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কলেজের প্রশাসনিক ভবন তালাবন্ধ করায় ২ জুলাইর এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে ।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT