দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার গঙ্গাপুর-শংকরপুর এলাকার আল-হেরা জান্নি বরকতিয়া লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার মহাতামিম হাফেজ মো. আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের তদন্তে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানে গেলে মহাতামিমকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি মাদ্রাসা ত্যাগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সরকারি নথিতে ৬৪ জন এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর নাম দেখিয়ে প্রতি মাসে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ক্যাপিটেশন গ্রান্ট উত্তোলন করা হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ক্যাপিটেশন গ্রান্টভুক্ত (নিবন্ধন নম্বর-১০৭১/৯৯০) প্রতিষ্ঠানটি বছরে ১৫ লাখ টাকার বেশি সরকারি অনুদান পেয়ে থাকে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৪০ জন। এর মধ্যে এতিম মাত্র একজন এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী প্রায় ২০ জন। অথচ সরকারি কাগজপত্রে ৬৪ জন এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর তথ্য দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, ভর্তি নিবন্ধন খাতা কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো নথি দেখাতে পারেনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি অনুদান পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়। পাশাপাশি ভর্তি ও সেশন ফি হিসেবে বছরে নেওয়া হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলেও মহাতামিমের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের উন্নতি হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, তদন্তে গিয়ে মহাতামিমকে পাওয়া যায়নি। এর আগেও একাধিক পরিদর্শনে ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহাতামিম হাফেজ মো. আবুল হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সরকারি তালিকাভুক্ত এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নাম-ঠিকানাসহ কোনো তালিকা দেখাতে পারেননি। দুই দিন সময় নিয়েও তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন বলেন, "অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহম্মেদ হাছান বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত মহাতামিমকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।