একসময় নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি শুনেও বাস্তবে তার সুফল না পাওয়ার অভিযোগ ছিল চা শ্রমিকদের। তবে এবার সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল এবং তাঁর ছেলে শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদের উদ্যোগে চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংসদ নির্বাচনের আগে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি চা বাগান পরিদর্শন করে শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যা সরেজমিনে দেখেন সংসদ সদস্য ও তাঁর ছেলে। সে সময় তাঁরা চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের একাধিক অধিবেশনে চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকারসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল। সুরমা চা বাগানের এক বাসিন্দা জানান, বাগান পরিচালিত কয়েকটি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানানো হলে তাঁর বিশেষ বরাদ্দের অর্থায়নে সুরমা টি গার্ডেন আইডিয়াল হাই স্কুল, সুরমা চা-বাগান ১০ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাহঝিল প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তেলিয়াপাড়া সেন্ট জোসেফ বিদ্যালয়ে বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও সিলিং ফ্যান বিতরণ করা হয়েছে।
এতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও আরামদায়ক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। লস্করপুর ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদের প্রচেষ্টায় চণ্ডীছড়া চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলো জেলার মধ্যে প্রথমবারের মতো ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন মন্দিরের উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার, ছাগল বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে চা শ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা শ্রমিকদের উন্নয়ন আমাদের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে করা হচ্ছে।
আমরা চাই তাদের সন্তানরা শিক্ষিত হয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হোক এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পাক। দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে চা বাগানের এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকেও উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবে। তাই সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এসব উদ্যোগ আশার সঞ্চার করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ভূমির অধিকার নিশ্চিত হলে চা বাগান এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।