নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে প্রেমিকের সহযোগিতায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে স্কুলছাত্রীর প্রেমিক আবির তালুকদারকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক জয় মিয়া (২২) এখনও পলাতক।
শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার আবিরকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের বার্তারগাতী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আবির তালুকদার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাকরপুর গ্রামের মশিউর তালুকদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ মোহনগঞ্জ পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
অপরদিকে, পলাতক জয় মিয়া একই উপজেলার খসিদপুর গ্রামের স্বাধীন মিয়ার ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরের বার্তারগাতী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোরিকশা চালাতেন। তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় তিনি ওই বাসায় একাই থাকতেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোহনগঞ্জের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার সঙ্গে আবিরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী তার চাচাতো বোনকে নিয়ে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে শহরে বের হন। পরে আবিরের সঙ্গে দেখা করতে জয় মিয়ার অটোরিকশায় করে তার ভাড়া বাসায় যান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীর চাচাতো বোনকে পাশের একটি কক্ষে রাখা হয়। এ সময় আবির ও ভুক্তভোগী অন্য কক্ষে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে জয় মিয়া ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আবির সহযোগিতা করেন।
ঘটনার পর দুই অভিযুক্ত সেখান থেকে চলে গেলে ভুক্তভোগী বাসা থেকে বের হয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে বিকেলে উপজেলার নওহাল এলাকার শিশুপার্কসংলগ্ন স্থান থেকে আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জয় মিয়া পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, জয় মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য মোহনগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জয় মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আবির তালুকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, "গ্রেপ্তার আবিরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক জয় মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্নসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।"