ভরা মৌসুমেও ভোলার মনপুরার মেঘনা নদীতে মিলছে না রুপালি ইলিশ। দিনে-রাতে মেঘনায় জাল ফেললেও পাওয়া যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা। যেন মেঘনায় ‘নিখোঁজ’ রয়েছে রুপালি ইলিশ। এতে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এখানকার হাজারও জেলে পরিবারের।
গত একসপ্তাহ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার রামনেওয়াজ মাছ ঘাট, হাজিরহাট মৎস্যঘাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া জনতা বাজার মৎস্যঘাট, মাঝেরঘাট, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খালের মৎস্যঘাট ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
বিভিন্ন জেলেপল্লি ঘুরে আলাপ করে জানা যায়, মাছ না পাওয়ায় একধরনের হতাশায় নিমজ্জিত জেলেরা। অনেকেই ধার-দেনা করে নদীতে মাছ ধরতে গেলেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
কয়েকজন জেলে জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলছেন তারা। কেউ ফিরছেন অল্প কিছু মাছ নিয়ে, আবার কেউ ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। মাছ বিক্রির আয় দিয়ে অনেকেরই জ্বালানি তেল, বরফ ও শ্রমিকের খরচও উঠছে না। এতে দিনদিন বাড়ছে আর্থিক সংকট, পাশাপাশি এনজিও ঋণের চাপও বাড়ছে জেলে পরিবারগুলোর ওপর।
উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরঘাট এলাকার স্থানীয় জেলে আব্দুল রহিম বলেন, প্রতিদিন নদীতে যাই, কিন্তু মাছ তেমন পাচ্ছি না। আগে এক জালে যত ইলিশ উঠত, এখন কয়েকবার জাল ফেলেও ততো মাছ পাওয়া যায় না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে পড়ছে।
জনতা বাজার মৎস্য ঘাটের জেলে মো. মালেক বলেন, তেল, বরফ ও খাবারের খরচ অনেক বেড়েছে। নদীতে গিয়ে যদি মাছই না পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে কিভাবে চলব? এখন আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।
শুধু জেলেরাই নন, এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছঘাট ও আড়তগুলোতেও। ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন লোকসানের মুখে এমন কথা জানান রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী মো. জাহিদ ।
উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী কালাম মাঝি বলেন, ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাটে ইলিশে ভরে যায়। এবার সেই তুলনায় মাছ অনেক কম আসছে। ফলে আমাদের ব্যবসায়ও মন্দা চলছে এবং দিন দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বণিক বলেন, ইলিশের চলাচল অনেকটাই নদীর পরিবেশ, জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। আগামী দিনগুলোতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আমরা আশাবাদী।