ঢাকা | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান

বিএনপির ঋণ, বিপ্লব বিতর্ক এবং রক্তাক্ত ইতিহাস

author
রাজু আলীম

প্রকাশিত : ৪ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১০
ad003
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াই রাজপথে নয়, ইতিহাসের পাতায়। কে এই পরিবর্তনের ভিত্তি নির্মাণ করেছেÑ এই প্রশ্নে চলছে কৃতিত্বের প্রতিযোগিতা। কিন্তু ইতিহাসের একটি স্বীকৃত সত্য হলো, কোনো গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ জন্ম নেয় না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিরোধ, রাষ্ট্রের বৈধতার সংকট এবং জনগণের জমে থাকা ক্ষোভ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানও তার ব্যতিক্রম নয়। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ছিল সেই বিস্ফোরণের তাৎক্ষণিক উপলক্ষ; কিন্তু বিস্ফোরণের উপাদান জমা হয়েছিল বহু বছর ধরে। সেই কারণেই আজ প্রশ্নটি কেবল ছাত্র আন্দোলনের নয়; বরং দীর্ঘ বিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রাম, বিশেষ করে বিএনপির ভূমিকা ইতিহাস কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তনের ইতিহাস লিখতে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসেÑ এই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ভিত্তি কোথায় নির্মিত হয়েছিল? কেবল জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই কি তার উত্তর নিহিত, নাকি এর পেছনে দীর্ঘদিনের বিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে?

রাজনীতির একটি মৌলিক সত্য হলো, কোনো সরকার শুধু একটি আন্দোলনের কারণে ক্ষমতা হারায় না। একটি সরকার তখনই পতনের মুখোমুখি হয়, যখন দীর্ঘদিন ধরে তার রাজনৈতিক বৈধতা ক্ষয় হতে থাকে, জনগণের আস্থায় ফাটল ধরে এবং বিরোধী শক্তি সেই অসন্তোষকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও সেই বাস্তবতার বাইরে নয়।

২০০৯ সালের পর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে দাবি করে এসেছে যে দেশের গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন, যেখানে প্রধান বিরোধী দল অংশ নেয়নি এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কÑ এই দুটি ঘটনাই বাংলাদেশের রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই সময়ে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন, সমাবেশ, পদযাত্রা, গণঅবস্থান, যুগপৎ কর্মসূচি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়, বহু নেতা দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকেন এবং সাংগঠনিকভাবে দলটি ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। কিন্তু দলটি রাজপথ ছাড়েনি।

রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব থাকে। যখন একটি সরকার দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকে এবং বিরোধী দল ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন তোলে, তখন সেই বিতর্ক কেবল দলীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশেষ করে যখন ইলেকশন নিয়ে জনগণের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয় এবং একই সময়ে অর্থনৈতিক চাপ, দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে, তখন বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য সমাজের বৃহত্তর অংশেও গ্রহণযোগ্যতা পেতে শুরু করে। এই দীর্ঘ সময়ে একটি রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব গড়ে ওঠেÑ পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা।

জুলাই আন্দোলনের দ্রুত বিস্তারের পেছনে এই রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেই অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। কারণ, কোটা সংস্কারের মতো একটি নির্দিষ্ট দাবির আন্দোলন কয়েক দিনের মধ্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয় না, যদি না সমাজে আগে থেকেই গভীর অসন্তোষ জমা থাকে।

জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহও সেই বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন নতুন গতি পায়। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন এবং দাবি আদায়ের জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘর্ষ, উত্তেজনা এবং সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। আন্দোলন দমনের বিভিন্ন উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি এসে আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিভার্সিটির গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে নিজেদের আন্দোলন হিসেবে দেখতে শুরু করেন। অভিভাবক, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানান। একটি দাবি-ভিত্তিক আন্দোলন ধীরে ধীরে জনআন্দোলনের রূপ নিতে শুরু করে।

জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো নাটকীয় হয়ে ওঠে। আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; রাষ্ট্র পরিচালনা, জবাবদিহি, নাগরিক অধিকার এবং সরকারের বৈধতা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে চলে আসে। প্রতি দিন নতুন নতুন কর্মসূচি, সংঘর্ষ, গ্রেফতার এবং হতাহতের খবর রাজনৈতিক সংকটকে আরো গভীর করে তোলে। এই সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরাও বিভিন্নভাবে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভূমিকা এই পর্যায়ে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। দলটির দাবি, তাদের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী আন্দোলনে অংশ নেন এবং সরকারও বিষয়টি অনুধাবন করেছিল বলেই বিএনপির বহু সিনিয়র নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। বিএনপির দৃষ্টিতে এটি ছিল ছাত্র আন্দোলনের সমান্তরালে দীর্ঘদিনের সরকার বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা। তাদের বক্তব্য, তারা ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব নেয়ার চেষ্টা করেনি; বরং একটি গণআন্দোলনের পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন ও সাংগঠনিক সহায়তা দিয়েছে।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছে, যেখানে আন্দোলন কার্যত সর্বজনীন চরিত্র লাভ করে। দেশের বিভিন্ন জেলায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করে। আন্দোলনের রাজনৈতিক অভিঘাত তখন আর অস্বীকার করার সুযোগ ছিল না। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতা এবং জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ঘটনাপ্রবাহ একত্রিত হয়ে এমন এক বাস্তবতা তৈরি করে, যার পরিণতি আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটিতে গিয়ে পৌছায়।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নিতে থাকে। বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম বাড়তে থাকে, সরকার বিরোধী ক্ষোভ আরো তীব্র হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার রাষ্ট্রের প্রচেষ্টা রাজনৈতিক সংকটকে আরো গভীর করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটে। কিন্তু সেই মুহূর্তে আরেকটি বিতর্ক সামনে আসেÑ এই বিজয়ের রাজনৈতিক কৃতিত্ব কার?

বাস্তবতা হলো, জুলাইয়ের আন্দোলনের নৈতিক শক্তি এসেছিল শিক্ষার্থীদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ থেকে। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতার আরেকটি দিকও রয়েছে। আন্দোলন কখনোই সম্পূর্ণ শূন্যতার মধ্যে জন্ম নেয় না। যে সমাজে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিরোধ নেই, বিরোধী দল নিষ্ক্রিয় এবং জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা সংগঠিত নয়, সেখানে একটি ছাত্র আন্দোলন যতই শক্তিশালী হোক, তা রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিবর্তনের পর্যায়ে পৌছানো কঠিন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক পটভূমি তৈরিতে বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ খুব কম।

বিএনপির প্রতিটি স্তরের নেতা-কর্মী এই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত ছিলেন। নেপথ্যে বিএনপির সক্রিয় ভূমিকা সরকারও উপলব্ধি করেছিল বলেই আন্দোলনের সময় দলটির বহু সিনিয়র নেতাকে গ্রেফতার করা হয় এবং অনেক স্থানে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। বিএনপি অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে এসেছে, তারা ছাত্রদের আন্দোলনের নেতৃত্ব নিতে চায়নি; বরং জনগণের আন্দোলনের পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন এবং সাংগঠনিক সহায়তা দিয়েছে। এই অবস্থান তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলনের ওপর দলীয় ছাপ পড়লে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

আন্দোলনের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা পাল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করেছে। কেউ একে একান্তই ছাত্রদের বিজয় বলেছেন, কেউ আবার নিজেদের ভূমিকাকে মুখ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। কিন্তু ইতিহাস মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের উপস্থিতির চেয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত দেড় দশকে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক, সংগঠিত এবং দেশব্যাপী আন্দোলন পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপিই ছিল সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। অন্য দলগুলো বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচি পালন করলেও তাদের সাংগঠনিক বিস্তার, আন্দোলনের স্থায়িত্ব এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা একই মাত্রায় ছিল না। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরির ক্ষেত্রে বিএনপির ভূমিকাকে অস্বীকার করা যেমন বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হবে, তেমনি ছাত্রদের আত্মত্যাগকে আড়াল করাও সমানভাবে অন্যায় হবে।

এখানে দুটি সত্য পাশাপাশি বিদ্যমান। প্রথমত, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হতো না। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিরোধ, নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের প্রক্রিয়া না থাকলে সেই ছাত্র আন্দোলন এত দ্রুত সর্বজনীন রাজনৈতিক বিস্ফোরণে পরিণত হওয়ার পরিবেশও তৈরি হতো না। ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ পাঠ এই দুই বাস্তবতাকে একসঙ্গে বিবেচনা করার মধ্যেই নিহিত।

তবে রাজনৈতিক প্রাপ্তির সঙ্গে রাজনৈতিক দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি যদি মনে করে যে এই পরিবর্তনের পেছনে তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের অবদান রয়েছে, তাহলে জনগণও স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করবেÑ দলটি অতীত থেকে শিক্ষা নেবে। বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র, অবাধ নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জবাবদিহির যে প্রতিশ্রুতি তারা দীর্ঘদিন ধরে দিয়ে এসেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ এলে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় মানুষ। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতার পরিবর্তন নতুন নয়; নতুন হওয়া উচিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।

দেশের মানুষ আর এমন একটি রাজনৈতিক চক্রে ফিরে যেতে চায় না, যেখানে এক দল ক্ষমতায় এসে আরেক দলের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রতিশোধমূলক রাজনীতি চালাবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত সাফল্য তখনই নিশ্চিত হবে, যখন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবমুক্ত হবে, নির্বাচন জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে, বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং বিরোধী মতকে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে নয়, গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কেবল ছাত্রদের নয়, কেবল বিএনপিরও নয়। এটি সাহস, সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ, রাষ্ট্রের দীর্ঘ সংকট এবং বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার সম্মিলিত ইতিহাস। তবে এই সামগ্রিক ইতিহাসের ভেতরে যদি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রশ্নটি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে বিএনপির ভূমিকা নিঃসন্দেহে কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতা স্বীকার করেই ইতিহাসের মূল্যায়ন করতে হবে।

কারণ ইতিহাস কেবল কে শেষ মুহূর্তে রাজপথে ছিল, তা মনে রাখে না; ইতিহাস মনে রাখে কে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর জন্য সংগ্রাম করেছে, কে সেই সংগ্রামের মূল্য দিয়েছে এবং কে পরিবর্তনের পর নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের দায়িত্ব পালন করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিএনপির জন্য একটি রাজনৈতিক প্রাপ্তি হতে পারে, কিন্তু সেই প্রাপ্তিকে ইতিহাসে স্থায়ী মর্যাদা দিতে হলে তাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো একটি অংশগ্রহণমূলক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখা। প্রকৃত বিচার শেষ পর্যন্ত সেখানেই হবে।

রাজু আলীম : কবি, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT