ঢাকা | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কয়রায় বেড়িবাঁধে অবৈধ পাইপ অপসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ঢালাই করে নিরাপত্তা জোরদার

author
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৫ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫
ad003
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)"র নির্দেশনায় অবৈধভাবে বসানো লোনা পানি উত্তোলনের পাইপ অপসারণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানসমূহ স্থায়ীভাবে মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। পাইপ অপসারণ শেষে সংশ্লিষ্ট স্থানে ঢালাই ও মাটি ভরাট করে বাঁধকে আরও মজবুত করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের একটি ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া থেকে হোগলা পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদসংলগ্ন ২৪০ মিটার উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ অনুন্নত রাজস্ব খাত (এনডিআর) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। চলমান সংস্কারকাজের পাশাপাশি বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অবৈধ পাইপ অপসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে নদী থেকে লোনা পানি তুলে চিংড়ি চাষ করায় বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ পাইপগুলো অপসারণ করে। পরে যেসব স্থানে পাইপ ছিল, সেখানে প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে ঢালাই, মাটি ভরাট ও ঢাল সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড আর না ঘটে।

সংস্কারকাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, অপসারণকৃত প্রতিটি স্থান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এতে জোয়ার-ভাটার সময় পানির চাপেও বাঁধের স্থায়িত্ব বজায় থাকবে এবং উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়রা উপ-বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোলাইমান হোসেন বলেন, উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধকে টেকসই করতে অবৈধ পাইপ অপসারণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কেউ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।

কয়রা উপ-বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সুলতান মাহমুদ বলেন, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঝুঁকিপূর্ণ সব অবৈধ পাইপ অপসারণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধের সার্বিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, সরকারি বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উপকূলীয় জনগণের স্বার্থে সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ পাইপ অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কার করায় বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের আস্থা বেড়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই বাঁধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলীয় জনপদ আগের তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT