ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাউদকান্দিতে জমি নিয়ে বিরোধ, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে থানায় ও এমপি বরাবর লিখিত অভিযোগ

author
দাউদকান্দি , কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৬ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২০
ad003
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক প্রবাসীর কাছ থেকে জমি ক্রয় ও রেজিস্ট্রি বাবদ অর্থ গ্রহণের পরও প্রায় ২৫ বছর ধরে জমির রেজিস্ট্রি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দাউদকান্দি মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মোবারক হোসেন।

মোবারক হোসেন দাউদকান্দি উপজেলার মারুকা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রবাসে থাকা অবস্থায় আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে মাওলানা মোশাররফ হোসেনের ওপর আস্থা রেখে দাউদকান্দি পৌরসভার পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদাখাল) এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পাঁচ শতাংশ জমি কেনার জন্য ২০০১ সালে তিন লাখ টাকা এবং রেজিস্ট্রি খরচ বাবদ আরও ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, অর্থ গ্রহণের পর অভিযুক্ত বারবার জমির রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে দেশে ফিরে তিনি নিজ অর্থায়নে জমি ভরাট, বসতঘর, রান্নাঘর, টিউবওয়েল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন।

মোবারক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে জমি-সংক্রান্ত আলোচনার কথা বলে তাঁকে চিটাগাং রোড এলাকার একটি আইনজীবীর কার্যালয়ে নিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়। তবে কী নথিতে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, তা তাঁকে জানানো হয়নি। এরপর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে ঘোরানো হয় এবং একপর্যায়ে তিনি ওই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে মতলব উপজেলার এক ব্যক্তি নিজেকে ওই জমির মালিক দাবি করে বাড়িটি ভাড়াটিয়াদের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে অভিযোগ করেন মোবারক হোসেন।

জমি-সংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি মোবারক হোসেনের আরও অভিযোগ, ২০০৯ সালে তাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর কথা বলে মাওলানা মোশাররফ হোসেন তাঁর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে বিদেশে পাঠানো সম্ভব নয় জানিয়ে তাঁর পাসপোর্ট ও কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

গত ২৫ মার্চ কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন মোবারক হোসেন। অভিযোগে তিনি জমির ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে সম্প্রতি দাউদকান্দি মডেল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোবারক হোসেন উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ২০ জুন সকালে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে জমির রেজিস্ট্রির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং জমি রেজিস্ট্রি দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে মারধর, প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বেপারী বলেন, “আমি ২০০৮ সাল থেকে এই বলদাখাল এলাকায় বসবাস করছি। তখন থেকেই মোবারক হোসেনকে ওই বাড়িতে থাকতে দেখেছি। পরে তিনি কী কারনে এখান থেকে চলে গেছেন সেটা জানিনা। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওলানা মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, “মোবারক হোসেন আমাকে ব্যবসার জন্য বিভিন্ন সময়ে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো দিয়েছিলেন। আমি সেই টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করি এবং ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে তাকে মোট ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো জমি-সংক্রান্ত লেনদেন হয়নি। তিনি এ ধরনের কোনো প্রমাণও দেখাতে পারবেন না। তবে তিনি চাইলে পারিবারিক বা সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি আলোচনা করতে আমি রাজি আছি।”

ভুক্তভোগী মোবারক হোসেন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিজের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT