রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় মোঃ মোরসালিন (১১) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে তার ফুফাতো ভাই মেহেদী হাসান মুরাদ বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাউছার, স্যাকমো (SACMO) নাহিদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ নাজমা খাতুন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ রানু বেগম। তারা সবাই ঘটনার দিন মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাত্রিকালীন ডিউটিতে কর্মরত ছিলেন।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ,গত- (৫ জুলাই) শনিবার, দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে শিশু মোরসালিনকে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সে-সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং নার্স দায়িত্বে চরম অবহেলা করেন। রাত ২:০০ টা থেকে সকাল ৭:০০ টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা শিশুটি তীব্র ব্যথায় ছটফট করলেও ডা. কাওছার হাসপাতালের ডিউটি রুমে অবস্থান করলেও শিশুটিকে একবারের জন্য দেখার প্রয়োজনবোধ মনে করেননি। এমনকি শিশুর অভিভাবক ও স্বজনরা বারবার ডিউটিরত স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন ও রানু বেগমের কাছে গিয়ে ডাক্তারকে ডাকার কাকতি-মিনতি করলেও তারা অমানবিক আচরণ করেন এবং ডাক্তারকে রোগীর সংকটপূর্ণ অবস্থার কথা জানাননি।
পরবর্তীতে স্বজনরা জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত স্যাকমো (SACMO) নাহিদের কাছে গিয়ে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনিও চরম উদাসীনতা দেখিয়ে রোগীকে দেখতে যেতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে সকাল আনুমানিক ৭:০০ টায় রোগীর মা কোনো উপায় না দেখে নিজে ডাক্তারখানায় গিয়ে ডাক্তারকে ডেকে আনেন। ডা. কাউছার রোগীর শয্যাপাশে এসে পরীক্ষা করে জানান যে, শিশুটি ইতিমধ্যে মারা গেছে।
স্বজনদের অভিযোগ,কর্তব্যরতদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আইনি দায় থেকে বাঁচতে সকাল আনুমানিক ৭:১৯ মিনিটে (মৃত্যুর ১ ঘণ্টা পর) মৃত শিশুটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার একটি ভুয়া ছাড়পত্র প্রস্তুত করা হয় এবং তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ আজাদ মিয়া হাসপাতালে এসে নিশ্চিত করেন যে, তিনি পৌঁছানোর অনেক পূর্বেই শিশুটি মারা গিয়েছিল।
শিশুটির ফুফাতভাই মেহেদী হাসান মুরাদ জানান, হাসপাতালের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং উক্ত সময়ের ডিউটি রেজিস্টার পর্যালোচনা করলেই ডাক্তার নার্সদের চরম গাফিলতি ও অপরাধমূলক আচরণের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর হোসেন বলেন, শিশুটি ১০ দিন থেকে অসুস্থ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। রাত ২ টায় আমাদের এখানে ভর্তি করা হয়। সম্ভবত বাচ্চাটির সার্জিক্যাল সমস্যা থাকতে পারে। আমাদের উপজেলা কমপ্লেক্সে কোনো সার্জন নেই। তারপরেও শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে জেলা সিভিল সার্জন স্যারকে তদন্তের জন্য আবেদন করেছি। মৃত্যুর পরে শিশুর মরদেহ কেনো রেফার্ড করা হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তেই বোঝা যাবে?
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহম্মেদ জানান, এবিষয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।