নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ির সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে শহর ও গ্রাম এলাকায় চুরিসহ নানাধরণের অপরাধও বেড়ে গেছে।
প্রায় প্রতিদিনই খবর মিলে যে, বৈদি্যূতিক তার চুরি হয়েছে, দোকানের তালা ভেঙ্গে বা ছাদের টিন কেটে চুরি, বাসা-বাড়িতে ঢুকে চুরি, অফিস-বাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল চত্বর থেকে মোটর-সাইকেল-বাইসাইকেল-রিক্সা-অটোবাইক চুরি ইত্যাদি। সেইসাথে বেড়েছে ছোটো-বড় ছিনতাইয়ের ঘটনাও।
পুলিশ প্রশাসনের মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সৈয়দপুর উপজেলাসহ নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে ভিসা প্রতারণা, অন-লাইন জুয়াড়ি চক্রের সাথে-সাথে খেলার মাধ্যম ক্রিকেট, ফুটবল, ক্যারামবোর্ড, লুডু, তাসসহ বিভিন্ন খেলায় চলছে জুয়ার জম-জমাট আসর।
সৈয়দপুর শহরের রেল-লাইনের ধারে, পাড়া-মহল্লার আড্ডাগুলোতে ও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারসহ গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে-মোড়ে চা-পান-সিগারেটের দোকানে কম্পিউটারে, মোবাইল ফোনে, টেলিভিশন সেটে বিভিন্ন খেলার জুয়া চলছে।
সেইসাথে পৌরসভার শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে, কোনো কোনো উর্দূভাষী ক্যাম্পে বসবাসকারী কতিপয় ব্যক্তি ও যুবক, শহরের কয়েকটি পাড়া-মহল্লার বাসা-বাড়ি থেকে ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে, দোকানের আড়ালে, বাড়ি থেকেও অবাধে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে। আর এসব মাদকে আসক্ত সবচেয়ে বেশী উঠতি বয়সের তরুণ, যুবক ও মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিরা। এসব বিক্রি করা ও সেবন করা মাদকের মধ্যে রয়েছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, সিসা, ট্যাফেন্ডাডল ট্যাবলেট ইত্যাদি।
এলাকাবাসীসহ বোদ্ধামহলের মধ্যে এমন অভিযোগও রয়েছে, চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে কেবলমাত্র সেবনকারী কতিপয়দের গ্রেফতার করে লোক দেখানো অভিযান পরিচালানার জন্য এ মাদক ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না বরং বেড়েই চলেছে।
অন্যদিকে, চারিদিকে অন-লাইন জুয়ার কথা নিয়ে আলোচনা হয় এবং লক্ষ্য করা গেছে, সৈয়দপুরের বেশ কয়েকটি এলাকার যুবক ও ব্যক্তিরা অন-লাইন যেটা স্থানীয় ভাষায় থাই গেম নামে পরিচিতি পেয়েছে সেই জুয়া খেলে সেইসব এলাকার যুবক ও ব্যক্তিদের ভাগ্য বদলে গেছে। যেসব এলাকায় গেলে দেখা যায়, বহুতল বাড়িসহ কার-মাইক্রোসহ দামি মোটর-সাইকেলের মালিকও একেকজন ও বিলাসবহুল জীবন যাপনও করছেন। জেলা পুলিশ প্রশাসন মাঝে-মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অন-লাইন জুয়াড়ি ও ভিসা প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করলেও এসব জুয়া বন্ধ হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা হলে নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন জানান, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযান চালাচ্ছি। আমরা প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে জেলা সদরসহ জেলার অন্যান্য উপজেলার শহর-গ্রামের মাদকসেবী, কারবারী ও জুয়াড়ির গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনছি। আমরা এসব অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।