দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী যুবদল ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি, অনৈতিক কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি, অনৈতিক কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সংগঠনের সুনাম ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসব আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে বহু নেতাকর্মী গুম, হত্যা, নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও মামলার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন এবং ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সাংগঠনিক টিম গঠন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে বলে জানান যুবদল সভাপতি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি তরুণদের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু সংবাদেরও সমালোচনা করা হয়। মুন্না দাবি করেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি ‘সিন্ডিকেট’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একই ধরনের সংবাদ প্রকাস করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গঠনমূলক সমালোচনাকে দল সবসময় স্বাগত জানায়। তবে কোনো ব্যক্তি বা ঘটনাকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আগে তথ্য যাচাই করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কোনো নেতা বা কর্মী অপরাধে জড়িত হলে দল তাকে রক্ষা করবে না বরং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত তাকে আইনের আওতায় এনে প্রকৃত মদদদাতাদেরও খুঁজে বের করা।
এ সময় তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। তাই যাচাই করা তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেমন সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, তেমনি বিভ্রান্তিকর তথ্য জনমনে ভুল বার্তা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন যুবদলের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল কবীর পল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।