ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একই কারখানায় ফের ৭০ শ্রমিক অসুস্থ, দুই দিনে অসুস্থ দেড়শতাধিক, হুজুরের ঝাড়ফুঁক

তদন্তকমিটি গঠনের চিন্তা

author
শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৮ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
ad003
গাজীপুরের শ্রীপুরের টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় আরও ৭০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়েকজনকে হুজুর দিয়ে ঝাড়ফুঁক দেওয়া হয়েছে।  

বুধবার (৮জুলাই) সকাল থেকে তারা অসুস্থতা বোধ করলে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ওই কারখানায় ৭৭ শ্রমিক অসুস্থ হয়েছিলেন । দুই দিনে প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হলো। তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। 

চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  তাদের প্রায় সবাই হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব অনুভন করছিলেন। অনেকেই আবার অজ্ঞানও হয়ে পড়েন। তাদের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকজনকে গত মঙ্গলবার চিকিৎসকরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। 

কারখানার সুইং অপারেটর হাবিব মিয়া বলেন, বুধবার সকালের দিকে তাদের ৪০ থেকে ৫০০জন শ্রমিক অুসস্থতা অনুভব করেন। তাদের দ্রুত আল হেরা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

আলম মিয়া নামের অপর শ্রমিক বলেন, হঠাৎ বুক ব্যাথা, বমি শুরু হলে অসুস্থ শ্রমিকার খুব দুর্বল হয়ে পড়েন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে স্যালাইনসহ সাধারণ চিকিৎসায় আবার সুস্থও হচ্ছেন। এর কারণ তারা জানেন না। 

আফরোজা নামের এক নারী শ্রমিক জানিয়েছেন, অসুস্থতা সম্পর্কে বিভিন্ন শ্রমিকদের বিভিন্ন ধারণার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার ভেতরে মিলাদের আয়োজন করেছিলেন। 

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার জেরে কারখানার ভেতর বিভিন্ন মসজিদের ইমাম এনে মিলাদ পড়ানো হয়েছিল। কারখানায় “শয়তানের আসর “ পড়েছে অনেক শ্রমিকের এমন দাবির প্রেক্ষিতে তারা এই ব্যবস্থা করে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সূত্র জানিয়েছে, দুইদিনে অসুস্থ প্রায় সবাই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত বুধবার শ্রমিকরা অসুস্থ হলে সাময়িকভাবে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে সন্ধ্যায় কর্তৃপক্ষ আবারো কারখানার কার্যক্রম চালু করে।  

মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালের পরিচালক ডা: আবুল হোসাইন বলেন, “ বুধবার সকাল থেকে বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত তাদের কাছে ৭০জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে এসেছিলেন। ক্রমান্বয়ে তারা সুস্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। গতকাল মোট ৭৭জন অসুস্থ শ্রমিক তাদের হাসপতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

আল হেরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের দেখতে গিয়েছিলেন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম । তিনি বলেন,' একের পর এক শ্রকিক অসুস্থ হওয়ার ফলে মনে হচ্ছে এটা মাস হিস্টিরিয়া। আবার  সাধারণ চিকিৎসায় তারা সুস্থও হয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাউন্সিলিং করা যেতে পারে। এ ছাড়া কারখানার ভেতর তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের স্থান পরিবর্তন করেও দেখা যেতে পারে। সিভিল সার্জনের পরামর্শে  এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।'

সঞ্জিব কুমার নামের ওই কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, কি কারনে এমন অসুস্থতা তা জানা নেই। তবে অনেক শ্রমিক মনে করছেন কারখানায় শয়তানের আসর পড়ে থাকতে পারে। তাদের এমন দাবি ও পরামর্শে সেখানে মসজিদের ইমাম এনে মিলাদ পড়ানো হয়। তিনি আরো জানান, অসুস্থ্য শ্রমিকদের কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছে। বুধবার কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান আছে।'

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম যায়যায়দিনকে বলেন,' খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, কী কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হচ্ছেন, তা সংশ্লিষ্টরা তদন্ত করে দেখবেন। 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ জুন বুধবার একই কারখানায়  রাতের পালায় কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার (৩৬) নামের এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মারা যান । হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরদিন সকালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন কারখানার শ্রমিকেরা। তারা বিভিন্ন কারখানায় ভাংচুর চালিয়েছিলেন। এর জেরে কর্তৃপক্ষ কিছুদিন কারখানার ছুটি দিয়েছিল। ওই ঘটনায় ৩টি মামলা হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT