ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিভিএ ইন্টারফেসে কমিউনিটি ক্লিনিক উন্নয়নের রূপরেখা

author
জাবেদ আবেদীন শাহীন, কক্সবাজার

প্রকাশিত : ৮ জুলাই, ২০২৬ বিকেল ৫:১৫
ad003
গ্রামীণ জনপদের মানুষের শেষ ভরসাস্থল, তাদের বেঁচে থাকার আশার আলো কমিউনিটি ক্লিনিক। গ্রামীণ জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের সাথে হাত মিলিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে 'ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ' কক্সবাজার। এরই ধারাবাহিকতায় সেই কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মানোন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ইউসুফ কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ ইন্টারফেস মিটিং। অনুষ্ঠানের প্রতিটি পরতে পরতে ফুটে উঠেছে ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মেলবন্ধন।

কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সেবার মানোন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার (৮জুলাই) বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হলো এক অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা সভা (ইন্টারফেস মিটিং)। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কক্সবাজারের সহযোগীতায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল একটাই তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলা।

অনুষ্ঠানটি চমৎকার ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন কক্সবাজারের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্্যাবিলিটি কো—অর্ডিনেটর জয়শ্রী পিউরিফিকেশন। প্রজেক্টরের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বর্তমান চিত্র, সীমাবদ্ধতা এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের উন্নয়নের রূপরেখা চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন তুলে ধরেন। সভায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্টের আওতায় বিশেষ নজরদারিতে থাকা ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের সাগরপাড় কমিউনিটি ক্লিনিক, পি.এম.খালী ইউনিয়নের জুমছড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ওদাগরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক এবং খুরুশকুল ইউনিয়নের গাজীর ডেইল কমিউনিটি ক্লিনিক। 

 সভায় সুচনা বক্তব্যে দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং অফিসার পার্থ প্রতিম বাগচী বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের লক্ষ্য কেবল সহযোগিতা করা নয়, বরং স্থানীয় জনসমাজকে সাথে নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।কমিউনিটি স্কোরকার্ড ও সিভিএ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ সরাসরি স্বাস্থ্যসেবার মান মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো প্রাণ ফিরে পাবে। তিনি আরো বলেন,একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার প্রথম শর্ত হলো সহজলভ্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। কমিউনিটি ক্লিনিক শুধু চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, এটি মানুষের আশা ভরসার ঠিকানা। সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।  

সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটো চন্দ্র শীল। তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রশংসা করে বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে বলেই তৃণমূলের মানুষ আজ স্বাস্থ্যসেবার সুফল পাচ্ছেন। তাদের এই অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম গ্রামীণ স্বাস্থ্যের মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক কোনো সাধারণ ইমারত নয় এটি আমাদের গ্রামের অসহায় মানুষের বাঁচার অবলম্বন। তাই আমাদের লক্ষ্য কেবল ওষুধ দেওয়া নয়, রোগীদের সাথে মানবিক আচরণের মাধ্যমে তাদের হৃদয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করা। জনগণের অংশীদারিত্ব ছাড়া এই সেবার মানোন্নয়ন অসম্ভব।

ওয়ার্ল্ড ভিশন কক্সবাজারের উপজেলা কো—অর্ডিনেটর জগন্ময় প্রজেস বিশ্বাস বলেন, আমরা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন চাই না, আমরা চাই প্রতিটি ক্লিনিকে যেন সেবা গ্রহীতা ও সেবাদাতাদের মধ্যে একটি আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কমিউনিটি ক্লিনিক এর স্বাস্থ্যখাতের সফল মানুষের আস্থা, নিয়মিত সেবা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এই ক্লিনিকগুলোই গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ড হিসেবে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। 

বিশেষ অতিথি ডা. হাবিবুর রহমান (এমওডিসি) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান ওয়ার্ল্ড ভিশন ও সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ক্লিনিকগুলোর উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় উঠে আসে, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, গর্ভকালীন ও প্রসব—পরবর্তী সেবা, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী এবং জরুরি ওষুধ—সবই এখান থেকে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। বক্তারা দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও সঠিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে প্রকৃত 'হেলথ হাব' হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কক্সবাজার সদরে মোট ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, যা সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। এই সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর, সহজলভ্য ও জনবান্ধব করতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আজকের এই ইন্টারফেস মিটিংয়ের মাধ্যমে যে সমন্বিত উদ্যোগের সূচনা হলো, তা অদূর ভবিষ্যতে কক্সবাজারের গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT