ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, ৬ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

author
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৯ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯
ad003
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার অন্তত ছয়টি পয়েন্টে নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত দৈনিক পানি সমতলের তথ্য অনুযায়ী, চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২২ সেন্টিমিটার, শায়েরগঞ্জ পয়েন্টে ১৯৮ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মারুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া নবীগঞ্জ উপজেলার মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ১৭ সেন্টিমিটার, আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি ৭৩ সেন্টিমিটার এবং শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ের সুতাং ব্রিজ পয়েন্টে সুতাং নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, নবীগঞ্জ উপজেলার শেরপুর পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি এবং মাধবপুর উপজেলার মান্দা পয়েন্টে ধলেশ্বরী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে মাধবপুর উপজেলার মনতলা পয়েন্টে সোনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৪ সেন্টিমিটার নিচে থাকায় সেখানে পানি কমছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জ জেলায় ৬১ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ২২০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জ শহর পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে পূর্বভাদৈ ও রাধানগর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি অংশ নিচু ও দুর্বল থাকায় যেকোনো সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল, হাট-বাজার ও জনবসতিতে জলাবদ্ধতা এবং প্লাবনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT