ঢাকা | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ

author
বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৬:১০
ad003
বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. এস.এম মনিরুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের বিরোধে এবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে বিভাগীয় কার্যালযের প্রধান ফটকে তালা লাগানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বেলা ১টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোশিয়েসন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র এসে তালা লাগিয়ে দেন। প্রায় চার ঘন্টা পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে তাদের উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুধবার তার নেতৃত্বেই পরিচালক মনিরুজ্জামানকে টেনে বের করে পরিচালকের কক্ষে তালা দেয়া হয়।

পরিচালকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডা. সেলিমের নেতৃত্বে মেডিকেল কলেজের কিছু ছাত্র পরিচালকের দপ্তরে যান। তারা সকালে পরিচালক দপ্তরে আসার বিষয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। এর পর পরই ছাত্ররা ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।

কর্মচারীরা জানিয়েছেন, এতে সহকারী পরিচালকসহ ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেতরে আটকা পড়েন। জোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়া ৪ জন ভেতরে ঢুকতে পারেননি। ওই ছাত্ররাই বেলা ৩ টার দিকে অবরূদ্ধদের বিরিয়ানীর প্যাকেট দিয়ে যান। অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি মন্ত্রাণালয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট জহির রায়হান পুলিশসহ বিকাল ৫ টার দিকে গিয়ে তালা ভেঙ্গে কর্মচারীদের উদ্ধার করেন।

তালা দেয়া প্রসঙ্গে ডা. সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, পরিচালক ৫ দিনের ছুটিতে আছেন। অথচ  বৃহস্পতিবার সকালে বহিরাগতদের নিয়ে দপ্তরে গিয়ে বুধবার ছাত্রদের দেয়া তালা ভেঙ্গেছেন। এতে ক্ষুদ্ধ ছাত্ররা আবারও ওই দপ্তরে গিয়েছিলো। খবর পেয়ে তিনিও সেখানে যান। তিনি চলে আসার পরে ছাত্ররা তালা লাগিয়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ন দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা লাগানো বৈধ কিনা প্রসঙ্গে তুলতেই ডা. সেলিম বলেন, ‘এটা সরকার বুঝবে’।

বহিরাগতসহ প্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করে পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আমার অফিসে আমি গিয়েছি। ছুটি থাকলে যাওয়া যাবে না এমন কোন আইন নেই। বরং যিনি (ডা. সেলিম) গিয়েছেন তিনি বহিরাগত। আগের দিনও তিনি বিপুল সংখ্যক বহিরাগত নিয়ে সরকারি অফিসে বিশৃঙ্খলা করেছেন।  

স্বাস্থ্যের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, বেলা ১ টার দিকে কিছু লোক প্রথমে দপ্তরে ঢুকে। পরে তারা প্রধান ফটকে তালা মেরে চলে যান। তিনি নিজ কক্ষের মধ্যে থাকায় কারা গিয়েছিলো কিম্বা তালা মেরেছে তা তিনি দেখেননি। বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলে জানানো হলে বিকালে ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভাঙ্গা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, গত দুই দিন যাবৎ বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে যা ঘটেছে তা ইতিবাচক নয়। এটা যদি মেডিকেল কলেজে ঘটতো তাইলে ভিন্ন ব্যাপার ছিলো। অন্য দপ্তরে এসে তালা মারা মোটেও সমিচিন হয়নি। এই কাজটি করতে গিয়ে ড্যাব বিতর্কে জড়ালো। এমনকি বিএনপিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিরোধ থাকতেই পারে তবে সেটা সাংগঠনিক কিম্বা প্রশাসনিকভাবে সমাধান করাই শ্রেয়। আর কথায় কথায় কাউকে আওয়ামীলীগের দোসর বানানো এটা মোটেও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন নাগরিক সমাজের এই প্রতিনিধি।

প্রসঙ্গত, ডা. মনিরুজ্জামান মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পেয়ে গত সোমবার বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক পদে যোগদেন। কিন্ত ড্যাবের অভ্যন্তরীন বিরোধে একাংশ তার নিয়োগের বিরোধীতা করছেন। তাদের অভিযোগ, মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগের দোসর ও জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ড্যাব নেতারা স্বীকার করেছেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মনিরুজ্জামান আগে থেকেই ড্যাবের সঙ্গে যুক্ত ও জেলা কমিটির ৮৮ নম্বর সদস্য। বিরোধীতাকারীরা বুধবার মনিরজ্জামানকে টেনে বের করে কক্ষে তালা লাগিয়ে ছিলেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT