নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে লাথি মারার পর গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় বিএনপি নেতা ফেরদৌস মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার নেত্রকোণার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীন মোহনগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানজানা হক এ আদেশ দেন। আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার অপর পাঁচ আসামি বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে মামলার প্রধান আসামি ফেরদৌস মিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আশা আক্তার (২১) একই উপজেলার সুয়াইর গ্রামের বাসিন্দা সালমান শাহর স্ত্রী। ঘটনার সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং বাবার বাড়ি পালগাঁও গ্রামে অবস্থান করছিলেন।
গত ৩ জুন আশার ভাইয়ের একটি কুকুরকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ফেরদৌস মিয়া ও তার সহযোগীরা আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আশার বাবা দিলখোশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে গেলে অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ফেরদৌস মিয়া তার পেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং পরদিন তার গর্ভপাত ঘটে।
ঘটনার পরদিন আশার বাবা দিলখোশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ৫ জুন ভুক্তভোগীর স্বামী সালমান শাহ বাদী হয়ে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী সালমান শাহর এর দাবি, ঘটনার পর পুলিশ ফেরদৌস মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বিচার করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয় পাল বলেন, "এ মামলায় মোট ছয়জন আসামি রয়েছেন। বৃহস্পতিবার পাঁচজন আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন। তবে প্রধান আসামি ফেরদৌস মিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।"
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের পরোয়ানা হাতে পাওয়ার পর ফেরদৌস মিয়াকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।