আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে খোদ পুলিশের প্রিজন ভ্যানেই টেকনাফ থেকে কক্সবাজারে পাচার করা হচ্ছিল মাদকের মরণনেশা ইয়াবার বিশাল চালান। মাদকের বিষবাষ্প যে রাষ্ট্রীয় পরিবহন ব্যবস্থাকেও কলুষিত করতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো কক্সবাজারের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়।
শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ ভ্যানচালক মো. ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক পরিবহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত চালক মো. ফয়সাল টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত জহির আহমদের ছেলে। বিষয়টি কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একাধিক নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকি পার হয়ে সরকারি গাড়িতে করে কীভাবে এই নিষিদ্ধ মাদকের চালানটি নির্বিঘ্নে গন্তব্যের দিকে আসে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও গভীর বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিজস্ব পরিবহনের ভেতরে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ইয়াবার বিশাল চালান। এঘটনার আকস্মিকতায় জনসচেতন মহলে প্রশ্ন উঠছে রক্ষকই কি তবে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে টেকনাফের গফুর নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করেছিলেন। পরে তা কক্সবাজার শহরের এক নারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। চালানটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারলে তিনি ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা ছিল বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, মাদক পাচারকারীরা এখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহনকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার মতো দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয় বরং সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের কৌশলগত তৎপরতার ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে। এ ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা, যানবাহন তল্লাশির মান এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারির বিষয়ে নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৮ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার চালকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে মাদক পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।