সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চল। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অনাকাঙ্ক্ষিত বহু ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরবাসীর দাবি ছিল একটি পুলিশ ফাঁড়ির।
দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাদের প্রচেষ্টায় ,পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থান পরিদর্শন করে এক মাসের মধ্যে পুলিশ ফাঁড়ির স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে উদ্বোধনের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কালে রাজশাহী -৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও চরের মানুষ নিরাপত্তায় বসবাস করার সুযোগ পায়নি। অতীতের ঘটনা ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে গোলাগুলি, ডাকাতি ও নাশকতার ঘটনায় চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল। পুলিশ ফাঁড়ির স্থাপনের মাধ্যমে চরে কোন সন্ত্রাসী থাকবে না। অস্ত্রবাজ থাকবে না মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, দখলবাজি থাকবে না। সকলের সহযোগিতায় চর হবে সন্ত্রাসমুক্ত শান্তির আবাসভূমি।
শুধু তাই নয়, এই অর্থবছরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে বীজ নির্মাণ করা হবে। যাতে করে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হয়। আজকের পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনে পুলিশের উদ্বোধন কর্মকর্তারা যে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও শান্তি শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য তারা এগিয়ে এসেছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে কাউকে আর অতীতের মতো কষ্ট করতে হবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় গেছে ততবারই গ্রামের উন্নয়ন করেছে।শিক্ষায় অনগ্রসর চরবাসীদের দেশে বলেন আপনাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান লেখাপড়া শিখান| যদি সন্তানকে যোগ্য করে বোর্ডে তুলতে পারেন তাহলে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকলে চাকরির জন্য কাউকে কোন টাকা খরচ করতে হবে না| পাশাপাশি সন্তান মাদকাসক্ত না হয়। সে বিষয়ে শিক্ষকের পাশাপাশি নিজেদেরও খোঁজ খবর রাখতে হবে|
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহাজাহান আলী বলেন ,গত ২৭ মে এমপি মহোদয়ের সাথে পরিদর্শনে এসে চরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এক মাসের মধ্যে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন করতে পেরে ভালো লাগছে।
তবে আপনারা মতামত দিয়ে জায়গা দিয়ে টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা না করলে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে এত তাড়াতাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করা কষ্টকর হতো।
অতিরিক্ত ডিআইজি শামীম হোসেন বলেন,চরবাসী দীর্ঘদিন ধরে যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের মধ্যে দিয়ে অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে| তবে পুলিশের কাজে বাধা না দিয়ে আপনাদেরও সহযোগিতা করতে হবে তবেই আমরা শান্তিপূর্ণ নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পারবো| যারা না বুঝে পুলিশের কাজে বাধা দিচ্ছেন তারা নিজের ও আপন সন্তানদের ক্ষতি করছেন| অন্যায় করলে কেউ আইন থেকে মুক্তি পাবে না|পুলিশ কোন অপরাধ করলে রেহাই পাবে না|
রাজশাহীর পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান বলেন, পুলিশ আগেও ছিল এখনো আছে| সমর্থন ছাড়া পুলিশের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়| যারা পুলিশে চাকরি করে তারা এ দেশেরই আপনার আমার কারো না কারো সন্তান| গার্জিয়ান হিসাবে সহযোগিতা করলে আমরা শান্তির দেশ উপহার দিব| তাই পুলিশের সাথে আচরণ খারাপ না করে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন এবং সেবা নিশ্চিত করুন| অন্যায় ওরে কেউ রেহাই পায়নি|
অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক জগলু শিকদার| তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হওয়ায় বাঘার চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত| পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনে তারা ¯^স্তি প্রকাশ করেছেন।
রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক এসএম সালাউদ্দিন শামীম সরকারের উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাঘা-চারঘাটের সার্কেল এসপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার, বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হকসহ বাঘা উপজেলার স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।