ঢাকার আশুলিয়ায় ঘরে বসে হাতবোমা (ককটেল) তৈরি করার সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় পুলিশ। এতে রনি (২০) নামের এক যুবকের বাম হাতের আঙুলসহ কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শনিবার (১১জুলাই) সন্ধ্যার দিকে আশুলিয়ার জামগড়ার রূপায়ন মাঠ সংলগ্ন ভাদাইল পাবনারটেক পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত রনি ওই এলাকার ইমরানের মালিকানাধীন বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত এবং তাঁর বাবার নাম রিপন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকেল ৫ টার দিকে ইমরানের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান তাঁরা। শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে ঘরের ভেতর রনিকে রক্তাক্ত ও মারাত্মক জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বিস্ফোরণে তাঁর বাম হাতের আঙুল ও কব্জি পুরোপুরি উড়ে যায়। ঘটনার সময় ওই কক্ষে রনি একাই ছিলেন। পরে প্রতিবেশীরা ও তাঁর পরিবার দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে হাতবোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত জব্দ করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
"ঘটনাস্থলের আলামত দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, রনি নিজ ঘরে বসে হাতবোমা বা ককটেল তৈরির চেষ্টা করছিলেন। সে সময়ই এটি বিস্ফোরিত হয় এবং তাঁর বাম হাতের কব্জি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে।"
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িতদের উদ্দেশ্য এবং ককটেল তৈরির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।