নাটোরের লালপুর উপজেলায় প্রায় তিন কোটি টাকার ১৭৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় নেওয়া এসব প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে শুরু থেকেই গঠন করা হয় বিশেষ মনিটরিং কমিটি। সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি প্রকল্পগুলোর কাজ নিয়মিত পরিদর্শন ও মান যাচাই করেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), টিআর কর্মসূচি এবং এডিপির উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দের আওতায় ১৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান সংস্কার, কাঁচা রাস্তা মেরামত এবং হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) সড়ক নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ১৬৩টি এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পগুলোর জন্য ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩ টাকা, পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৯ দশমিক ৩৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৭০ দশমিক ৩৫০ মেট্রিক টন গম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত বিশেষ মনিটরিং কমিটি উপজেলার পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের মান নিশ্চিত করেছে। কোথাও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পরিবর্তন করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কঠোর নজরদারির কারণে ঠিকাদাররা অনিয়ম করার সুযোগ পাননি। বিশেষ করে এইচবিবি সড়কের ইট তুলে নিচের স্তরে বালু ও ইটের গুণগত মানও পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
বিশেষ প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সদস্য শাহিনুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনের তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।
ঠিকাদার কাওছার হোসেন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে মানসম্মত কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আওলাদ হোসেন বলেন, সব প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় তদারকি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, “উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। কোথাও অনিয়ম প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের অর্থ আত্মসাতের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।”