কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে আকস্মিক পাহাড়ধসের ঘটনায় রোজিনা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব কলাতলী এলাকার ঝিরঝিরি পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রোজিনা ওই এলাকার আব্দুল মুজিবের স্ত্রী এবং সুলতান আহমদের কন্যা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতের খাবার প্রস্তুত করতে রান্নাঘরে অবস্থান করছিলেন রোজিনা। এ সময় আকস্মিকভাবে পাশের পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়লে তিনি রান্নাঘরের ধ্বংসস্তূপ ও মাটির নিচে চাপা পড়েন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্বজনদের চিৎকারে পাশ্ববর্তীরা এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা সেখানে বসবাস করলেও সম্প্রতি বাড়ির ওপরের অংশে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার ফলে স্থানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অপরিকল্পিত ও অবৈধ পাহাড় কাটার কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়টি ধসের ঝুঁকির মুখে ছিল। কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে পাহাড় নিধন চললেও প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে প্রতি বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত বিরতিতে এমন ট্র্যাজেডি ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।