ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তির দাবি ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের

author
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২৫
ad003
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও সুপারিশ-বঞ্চিত প্রার্থীরা শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বৈষম্যমূলক ‘৭৫% কলেজ সংরক্ষণ নীতি’ বাতিল এবং মেধার ভিত্তিতে সবার নিয়োগ নিশ্চিত করাসহ ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ রোববার (১২ জুলাই)  দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুর কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এসব দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোরশেদ আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুনিয়া তাসনিম, মিনু আক্তার, মাসুদ রানা, নিপা আক্তার, শাকিল মিয়া, অনন্যা রানী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা জানান, এনটিআরসিএ-এর ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী শূন্যপদের বিপরীতেই ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে ৬০,৩৬৪ জনকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল, যেখানে পাসের হার ছিল মাত্র ৩.২৪%। অত্যন্ত কঠিন এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ৩টি ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়ভিত্তিক শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত না করায় এবং পূর্বের সুপারিশপ্রাপ্তদের বারবার আবেদনের সুযোগ দেওয়ার কারণে তারা চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও সুপারিশ পাননি। ফলে তারা চরম সামাজিক হেয় প্রতিপন্নতা ও অমানবিক জীবনযাপন করছেন।

বঞ্চিত প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতিপূর্বে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শূন্যপদ সংরক্ষণের কথা থাকলেও, গণমাধ্যমের বরাতে তারা জানতে পেরেছেন কলেজ পর্যায়ে মাত্র ৭৫% পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি তাদের ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের জন্য চরম হতাশাজনক। উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন:
বাংলা বিষয়ে যেখানে শূন্যপদ ১১৯টি, সেখানে ৭৫% সংরক্ষণে পদ দাঁড়ায় মাত্র ৮৯/৯০টি; অথচ সুপারিশ-বঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা ৬৮৭ জন।

ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ৪৫টি শূন্যপদের বিপরীতে মাত্র ৩৩টি সংরক্ষিত পদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রার্থী সংখ্যা ২৪০+ জন।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ২২৪টি শূন্যপদের বিপরীতে ১৬৮টি পদ সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে, অথচ বঞ্চিত প্রার্থী রয়েছেন ৩০৮ জন।

কলেজ পর্যায়ে বিভিন্ন বিভাগে এই রকম শূন্যপদের বিপরীতে অনেক প্রার্থীরা সুপারিশ বঞ্চিত হয়েছেন ।

এই বাস্তবতায় প্রার্থীরা তাদের জীবন ও ক্যারিয়ার রক্ষার্থে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন:

১. ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক বঞ্চিতদের অনুপাতে শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি দিতে হবে, যাতে আর কেউ বঞ্চিত না হয়।

২. যেসব বিষয়ে শূন্যপদের তুলনায় সুপারিশ-বঞ্চিতদের সংখ্যা বেশি, সেসব বিষয়ে বঞ্চিত প্রার্থীদের সম্পূর্ণ নিয়োগ নিশ্চিত করার পূর্বে নতুন কোনো নিবন্ধন সার্কুলার প্রকাশ করা যাবে না।

৩. সনদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশ-বঞ্চিত সবাইকে নিয়োগের আওতায় আনতে হবে এবং সহকারী শিক্ষক, স্কুল পর্যায়-২ এবং প্রভাষক পদে শতভাগ নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ ও সুপারিশবঞ্চিত শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের মেধারী হবু শিক্ষকদের এই যৌক্তিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে এবং মেধার সঠিক মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT