নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্বিক পরিস্থিতি, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মাদকবিরোধী অভিযানে জোরদার বাড়াত হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। সভার শুরুতে জেলা প্রশাসক মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের থানা-ওয়ারী পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার নির্দেশ দেন। এসময় যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আনসার সদস্যদের খোয়া যাওয়া অস্ত্র, মোবাইলের দোকানে চুরির সঙ্গে জড়িত চক্র এবং বিভিন্ন থানা থেকে খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আমরা সাফল্য পেয়েছি।
তিনি নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন ও যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি সক্রিয়করণ এবং সাইনবোর্ড-চাষাড়া এলাকাসহ জেলার সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, প্রাচীর ও প্রবেশ গেট নির্মাণের দাবি জানান। তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, সিএনজি পরিবহনে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং খাল খনন কার্যক্রমে দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান, ৬২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মির্জা মো. আরাফাত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফী বিন কবিরসহ আনসার-ভিডিপি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪, ফায়ার সার্ভিস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কারাগার, মৎস্য অধিদপ্তর ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও সমস্যা তুলে ধরেন।
সভায় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, যৌথ বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।