২০২৪ সালের আগস্টের সেই ঐতিহাসিক ও রক্তাক্ত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। চার দশকের রাজনৈতিক দম্ভ, দেড় দশকের একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং একটি আপাত-অজেয় রাজবংশীয় ক্ষমতার দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। ৫ আগস্ট দুপুরের পর যখন ঢাকার রাস্তায় লাখ লাখ ক্ষুব্ধ, বিজয়ী জনতার ঢল নামে, তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থাকা শেখ হাসিনা গণভবন থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে দেশত্যাগ করেন।
নিজের জীবন বাঁচাতে, বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা পেতে তাঁর এই আকস্মিক ও গোপনে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কেবল একটি সরকারের পতন ছিল না; এটি ছিল লক্ষ লক্ষ সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থককে এক অকুল সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার শামিল। কোনো পূর্ব-ঘোষণা ছাড়া, কোনো দিক-নির্দেশনা না দিয়ে, নিজের অনুসারীদের চরম বিপদের মুখে ফেলে একজন রাজনৈতিক নেতার এভাবে চলে যাওয়াকে ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক পলায়নপরতা ও কাপুরুষতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তবে পতনের চেয়েও বিস্ময়কর এবং নির্মম হয়ে উঠেছে পতন-পরবর্তী সময়ে ভারতের নিরাপদ আশ্রয়ে বসে শেখ হাসিনার একের পর এক লাগামহীন বক্তব্য, উস্কানি এবং অদূরদর্শী রাজনৈতিক হুংকার।
প্রশ্ন উঠেছে, যে নেতাকর্মীরা তাঁর শাসনকে টিকিয়ে রাখতে নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ বাজি রেখেছিল, আজ নিরাপদ দূরত্বে থেকে একের পর এক আত্মঘাতী বার্তা দিয়ে শেখ হাসিনা কি আসলে সেই নেতাকর্মীদের ওপরই এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছেন? কেন তারা নিজেদের জীবন দিয়ে তাঁর অবৈধ মসনদ রক্ষা করতে পারল না—এই ক্ষোভ থেকেই কি তিনি মাঠের কর্মীদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন?
পলায়নপরতার ট্র্যাজেডি: কর্মীদের অকুল সাগরে ভাসিয়ে নিরাপদ আশ্রয়
শেখ হাসিনার পনেরো বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি পরিণত করা হয়েছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশে। "হাসিনা মানেই বাংলাদেশ" কিংবা "হাসিনা না থাকলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে"—এমন একটি অলীক ধারণার ওপর ভর করে দলের ভেতর ও বাইরে এক ধরণের চাটুকারিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। ফলে, মাঠপর্যায়ের লাখ লাখ নেতাকর্মী বিশ্বাস করেছিলেন যে, আপসহীন নেত্রী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করবেন।
কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। শেখ হাসিনা যখন বুঝলেন তাঁর ক্ষমতার ভিত্তি ধসে পড়েছে, তখন তিনি দলের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির কোনো নেতার কথা ভাবেননি, ভাবেননি তাঁর ওপর ভরসা করে রাজপথে নামা সাধারণ কর্মীদের কথা। তিনি কেবল নিজের ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিলেন।
প্রকৃতপক্ষে একজন নেতার আসল পরিচয় মেলে সংকটের সময়ে। শেখ হাসিনা তাঁর নেতাকর্মীদের বুলেটের মুখে, জনতার ক্ষোভের সামনে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজে যখন নিরাপদ আকাশসীমায়, তখন মাঠের কর্মীরা পড়েছেন চরম অস্তিত্ব সংকটে।
পতনের পরপরই সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে ভাঙচুর ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। যদি শেখ হাসিনা একটি সুশৃঙ্খল উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেন বা কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে যাওয়ার ন্যূনতম দায়িত্ববোধ দেখাতেন, তবে এই মানবিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয় হয়তো এড়ানো যেত। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন কেবল নিজের আত্মরক্ষার পথ।
অক্ষমের আস্ফালন: ভারতের নিরাপদ দূরত্ব থেকে ধ্বংসাত্মক উস্কানি
ভারতে যাওয়ার পর থেকে কিছুদিন নীরব থাকার পর শেখ হাসিনা আবারও তাঁর চেনা আগ্রাসী ও বিভেদমূলক রাজনীতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন সময়ে ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় দেখা যাচ্ছে, তিনি বাস্তবতাবর্জিত এক সমান্তরাল মহাবিশ্বে বাস করছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং জনআকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত হুংকার ছাড়ছেন।
কখনো তিনি বলছেন তিনি হুট করে দেশে চলে আসবেন, কখনো মাথা উঁচু করে ফেরার কথা বলছেন, সম্প্রতি এ বছরই ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। সর্বশেষ ডিসেম্বরে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোর ভাষা। তিনি নেতাকর্মীদের উস্কানি দিয়ে বলছেন, 'পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।'
এই ধরণের বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন "অক্ষমের আস্ফালন" বা ফাঁকা আওয়াজ হিসেবে। নিজে নিরাপদ দূরত্বে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে, ভারতীয় গোয়েন্দা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে থেকে দেশের ভেতরে থাকা কোণঠাসা, ভীত ও বিপর্যস্ত কর্মীদের হিংসাত্মক হওয়ার এই পরামর্শ চরম অসংবেদনশীলতার লক্ষণ।
স্বাভাবিকতার পথে বাধা: পুনর্বাসন বনাম নতুন করে নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া
৫ আগস্টের ধাক্কা সামলে ওঠার পর, বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীই নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, ক্ষমতার আমল শেষ এবং এখন টিকে থাকার স্বার্থে তাদের শান্ত থাকতে হবে। অনেকে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি বা অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা করে, ব্যবসা-বাণিজ্য বা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। রাজনীতিতে এই ধরণের 'সারভাইভাল মেকানিজম' অত্যন্ত স্বাভাবিক।
ঠিক এই মুহূর্তেই শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেন,"এ বছরই আমি দেশে ফিরব।"
এই একটি মাত্র হঠকারী ও ভণ্ডামিপূর্ণ ঘোষণা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে চরম অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আবারও সতর্ক হয়ে উঠেছে। ফলে:যেসব নেতাকর্মী একটু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিলেন, তারা আবার নতুন করে টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান, গ্রেপ্তার এবং নতুন নতুন মামলার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। প্রতিপক্ষ দলগুলো মনে করছে, আওয়ামী লীগ ভেতরে ভেতরে বড় কোনো নাশকতার ছক কষছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ও নিরীহ কর্মীদের।
শেখ হাসিনার এই লাগামহীন কথাবার্তার ফলে তৃণমূলের ওপর যে নতুন করে নির্যাতন, নিপীড়ন ও হয়রানির সুনামি নেমে এসেছে, তা তিনি দিল্লির ড্রয়িংরুমে বসে অনুধাবন করতে পারছেন না—অথবা করতে চাইছেন না।
ক্ষমতার লোভ ও ভারতের ইশারা: কর্মীদের বলির পাঁঠা বানানোর রাজনীতি
রাজনৈতিক সাধারণ জ্ঞান যাদের ন্যূনতম আছে, তারাও বোঝেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে সশরীরে ফেরার কোনো আইনি, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবেশ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে শত শত হত্যা ও গণহত্যার মামলা ঝুলছে। এ অবস্থায় তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা কোনো বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং এটি একটি চরম রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও তামাশা।
তাহলে কেন তিনি এই মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন? এর পেছনে দুটি মূল কারণ কাজ করছে:ক্ষমতার চরম লোভ ও অহংকার। শেখ হাসিনা মানসিকভাবে এখনো মেনে নিতে পারেননি যে বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর ইগো বা অহংকার এতটাই প্রবল যে, তিনি তাঁর ভুলগুলো স্বীকার করে আত্মসমালোচনা করার চেয়ে দেশকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করতে পছন্দ করছেন।
আরেকটি কারণ হচ্ছে,ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও ভারতের ইশারা। ভারত এই অঞ্চলে তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগীকে হারিয়ে ভূ-রাজনৈতিকভাবে ব্যাকফুটে রয়েছে। শেখ হাসিনাকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা নতুন রাজনৈতিক শক্তির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা দিল্লির একটি কৌশল হতে পারে। কিন্তু এই ভূ-রাজনৈতিক দাবার চালের আসল বলির পাঁঠা হচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা। হাসিনার অন্ধ অনুসারীরা এই নির্মম সত্যটি উপলব্ধি করতে পারছেন না।
সোহেল তাজের কড়া চাবুক: ইগো, দুর্নীতি এবং দলের ধ্বংসযজ্ঞ
শেখ হাসিনার এই কপট রাজনীতি ও দেশ ফেরার ঘোষণার বিরুদ্ধে সবচেয়ে যৌক্তিক ও কঠোরতম সমালোচনাটি এসেছে তাঁরই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং তাজউদ্দীন আহমদের সন্তান তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের কাছ থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন:
"একজন মানুষের ইগো/অহংকার যে একটি দেশ এবং দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার। গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করে, গণতন্ত্র কবর দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করে, দেশ এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে ছাত্র-জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে গিয়ে, দুর্নীতি-লুটপাট করে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা, সেই টাকার পাহাড়ে বসে আবার এখন ফেরার কথা বলে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলবে- এটা তাদের সঙ্গে প্রতারণা আর ভণ্ডামি করা ছাড়া আর কিছু না।"
সোহেল তাজের এই বক্তব্যটি আওয়ামী লীগের ভেতরের একটি বড় অংশের অবদমিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে হচ্ছে। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে সেই টাকার পাহাড়ে বসে আরাম করছেন, আর দেশে তাদের কর্মীরা দুবেলা শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না। কোনো আত্মোপলব্ধি বা আত্মসমালোচনা না করে এই ধরণের সস্তা পপুলিজম এবং ফেরার নাটক মূলত দলের চুনোপুঁটি নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক চরম প্রতারণা।
জীবিত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু?
এর আগেও আমি বহুবার বলেছি যে,জীবিত শেখ হাসিনার কোনোভাবেই বাংলাদেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর কারণ হচ্ছে,শত শত হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দেশে পা রাখামাত্রই তাঁকে গ্রেপ্তার হতে হবে এবং বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ক্ষত এখনো দেশের মানুষের মনে দগদগে। তাঁর উপস্থিতি জনমনে তীব্র ক্ষোভের দাবানল জ্বালিয়ে দেবে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব হয় কারাগারে, নয়তো পলাতক। রাজপথে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি আওয়ামী লীগের এই মুহূর্তে নেই।
তাই এ বছর বা অদূর ভবিষ্যতে তাঁর দেশে ফেরার যে কোনো দাবি কেবলই রাজনৈতিক স্টান্টবাজি। তিনি নিজেও জানেন তিনি ফিরবেন না, কিন্তু এই মিথ্যে আশার বাণী দিয়ে তিনি দলের কর্মীদের একটি মরিচীচকার পেছনে ছুটিয়ে মারছেন।
পরিশেষে বলতে চাই শেখ হাসিনা অবচেতনভাবেই হোক কিংবা সচেতন কৌশল হিসেবে, তাঁর নেতাকর্মীদের ওপর এক ধরণের রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছেন। ৫ আগস্ট তাঁর ক্ষমতা রক্ষার শেষ চেষ্টায় যখন ছাত্র-জনতার স্রোতের সামনে পুলিশ এবং দলের ক্যাডাররা টিকতে পারল না, তখন থেকেই হয়তো তাঁর মনে এই ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। তিনি হয়তো ভাবছেন, যে কর্মীরা তাঁর মসনদ ধরে রাখতে পারল না, তাদের ভালো থাকার কোনো অধিকার নেই।
নিজে নিরাপদে থেকে, কর্মীদের উস্কানি দিয়ে মামলার মুখোমুখি করা, তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলা কোনো প্রকৃত নেতার কাজ হতে পারে না। এটি মূলত একধরণের রাজনৈতিক অন্ধত্ব, যেখানে নেতার অহংকার দলের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে।
সোহেল তাজ ঠিকই বলেছেন, যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ এই স্বৈরাচারী মানসিকতা, দুর্নীতি এবং গণহত্যার দায় স্বীকার করে আন্তরিক আত্মসমালোচনা ও আত্মোপলব্ধি করবে, ততক্ষণ বাংলাদেশের মাটিতে তাদের পুনর্বাসনের বা ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আর শেখ হাসিনা যত বেশি দূর থেকে হুংকার দেবেন, দেশের মাটিতে তাঁর অবশিষ্টাংশ তত দ্রুত ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। সুতরাং কর্মীদের উচিত এই ভণ্ডামি ও প্রতারণার জাল ছিন্ন করে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই হাসিনার এই আত্মঘাতী উস্কানিকে প্রত্যাখ্যান করা।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল: [email protected]