ঢাকা | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খানাখন্দে বেহাল ধূলন্ডী–পেচারকান্দা সড়ক, সংস্কারের অপেক্ষায় দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

author
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২৯
ad003
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধূলন্ডী–পেচারকান্দা আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ ও ভাঙনের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও যানবাহনচালকেরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বালিয়াখোড়া বাজার থেকে ধূলন্ডী হয়ে পেচারকান্দা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বালিয়াখোড়া বাজারে প্রবেশের আগে রাস্তাটির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি ইমান আলীর বাড়ির সামনে। দীর্ঘদিন ধরে ওই অংশটি ব্যাপকভাবে ভেঙে যাওয়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অটোরিকশা, ভ্যানসহ সব ধরনের ছোট যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


ধূলন্ডী–পেচারকান্দা সড়কটি বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কয়েকটি  গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ঘিওর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন হাজারো মানুষ। বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় ও বাজারসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করে। এ ছাড়া কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যান এই সড়ক দিয়েই।

আঙ্গুরপাড়া গ্রামের ইজি বাইক চালক  পারভেজ মিয়া বলেন, প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

স্থানীয় শিক্ষক মাসুদ মিয়া বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাজী মোঃ আওয়াল খান বলেন, ভাঙা অংশের পাশে একটি বড় পুকুর রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় পানির প্রবাহে রাস্তার মাটি ধসে যায়। স্থানীয় উদ্যোগে কয়েকবার সংস্কার করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁর মতে, সেখানে একটি গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হলে ভাঙন অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।

ঘিওর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। এর আগে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা তূল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার এবং ভাঙনপ্রবণ অংশে টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করা 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT