ঢাকা | বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশ-আমেরিকা সম্পর্ক

অর্ধ শতকের বন্ধুত্ব এবং নতুন সময়ের বাস্তবতা

author
রাজু আলীম

প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৫৩
ad003
ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় ভোরের শিফট শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের এক জন শ্রমিক যে শার্টটি সেলাই করছেন, কয়েক সপ্তাহ পর সেটি হয়তো নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি দোকানের শোকেসে থাকবে। সিলেটের একটি পরিবারে এক জন মা ভিডিও কলে কথা বলছেন তার ছেলের সঙ্গে, যিনি টেক্সাসের একটি হসপিটালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। চট্টগ্রাম বন্দরে যে তুলার বেল নামছে, তার একটি বড় অংশ এসেছে আমেরিকা থেকে। আবার ঢাকার কোনো ইউনিভার্সিটির এক জন তরুণ গবেষক হয়তো আগামী শরতেই ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে বোস্টন বা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণাগারে যোগ দেবেন। এই চারটি দৃশ্যের মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু বাস্তবে এদের প্রত্যেকটিই একই গল্পের অংশ- বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্কের গল্প।

রাষ্ট্রের সম্পর্ককে আমরা প্রায়ই রাষ্ট্রপতি, প্রধান মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী কিংবা এম্বাসাডরদের বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেখি। অথচ আধুনিক বিশ্বে সম্পর্কের প্রকৃত শক্তি নির্ধারণ করে মানুষ, বাজার, প্রযুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়, বিনিয়োগ, অভিবাসন এবং ধারণার আদান-প্রদান। বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্কও ঠিক সেভাবেই বদলে গেছে। যে সম্পর্ক এক সময় খাদ্য সহায়তা আর উন্নয়ন সহযোগিতার ভাষায় সংজ্ঞায়িত হতো, আজ সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাপ্লাই চেইন, উচ্চপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু অভিযোজন, স্টার্টআপ, গবেষণা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভাষায় নতুন অর্থ খুজছে।

এই কারণেই আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি বাংলাদেশের জন্য কেবল আরেকটি ডিপ্লোম্যাটিক অনুষ্ঠান নয়। এটি এমন একটি সময়, যখন পাচ দশকের সম্পর্কের হিসাব-নিকাশ নতুন করে করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা কোথা থেকে শুরু করেছিলাম? কি অর্জন করেছি? কোথায় মতপার্থক্য রয়েছে? আর আগামী ২৫ বছরে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা কোথায়?

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা শুধু একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়নি; আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি নতুন ধারণারও সূচনা করেছিল। স্বাধীনতার পরের আড়াই শতকে দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি, উদ্ভাবনের কেন্দ্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রণী শক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কম্পানি, বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়, সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজার এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার বড় অংশ এখনো আমেরিকাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে এই যাত্রার আনুষ্ঠানিক সংযোগ শুরু হয় ১৯৭২ সালের ৪ এপৃল। সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ তখন খাদ্য সংকট, অবকাঠামো ধ্বংস, সীমিত বৈদেশিক মুদ্রা এবং দুর্বল প্রশাসনিক সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সেই সময় আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা ছিল পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু পাচ দশক পরে দুই দেশের সম্পর্কের চরিত্র আমূল বদলে গেছে। আজ বাংলাদেশ আর শুধু সহায়তা গ্রহণকারী রাষ্ট্র নয়; এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক, দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত অংশীদার।

বাংলাদেশের অর্থনীতির দিকে তাকালে আমেরিকাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আবার আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া নীতির দিকে তাকালেও বাংলাদেশকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এই পারস্পরিক বাস্তবতাই সম্পর্কটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

বাংলাদেশের লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে আমেরিকার বাজারের সম্পর্ক সরাসরি। আমেরিকার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ দশমিক আট বিলিয়ন ইউএস ডলার। এর মধ্যে আমেরিকায় বাংলাদেশের রফতানি ছিল প্রায় নয় দশমিক পাচ বিলিয়ন ডলার। এই সংখ্যাগুলো শুধু অর্থনীতির পরিসংখ্যান নয়; এর পেছনে রয়েছে লাখো শ্রমিকের জীবন, হাজারো কারখানা, অসংখ্য উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

কিন্তু বাংলাদেশ-আমেরিকা সম্পর্ককে শুধু তৈরি পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে ভুল হবে। কারণ একই সময়ে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ আমদানি করছে তুলা, গম, সয়াবিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, শিল্পযন্ত্র, উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য এবং কৃষি প্রযুক্তি। অর্থাৎ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক একমুখী নয়; এটি একটি জটিল, পরস্পর নির্ভর এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব।
বিশ্বের সাপ্লাই চেইন যখন নতুন করে পুনর্গঠিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশও একটি নতুন সুযোগের সামনে দাড়িয়ে। চায়না  কেন্দ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার বিকল্প খুজছে বহু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। ভিয়েতনাম, ইনডিয়া, ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশও সেই আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শুধু কম মজুরির শ্রমিক থাকলেই হবে না। প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, উন্নত বন্দর, দ্রুত কাস্টমস ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
তবে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবর্তন ঘটেছে অন্য একটি জায়গায়। এক সময় বাংলাদেশে আমেরিকার উপস্থিতি মানেই ছিল উন্নয়ন সহায়তা। এখন সেই সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু ধীরে ধীরে স্থানান্তরিত হচ্ছে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে। এটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বাইরে বাংলাদেশ-আমেরিকা সম্পর্কের আরেকটি শক্তিশালী ভিত্তি হলো সামাজিক উন্নয়ন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে কয়েকটি দেশ দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করেছে, আমেরিকা তাদের অন্যতম। এই অবদানকে কেবল সাহায্যের পরিমাণ দিয়ে মূল্যায়ন করলে ভুল হবে; এর অনেক প্রকল্প এমন পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার অংশ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে আমেরিকার উন্নয়ন সহযোগিতার প্রধান মাধ্যম ইউএসএআইডি। ১৯৭১ সালের পর থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। শুরুতে খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় জোর দিলেও পরবর্তী সময়ে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু অভিযোজন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তায়। বাংলাদেশের অনেক সফল উন্নয়ন কর্মসূচির পেছনে ইউএসএআইডির কারিগরি সহায়তা, অর্থায়ন কিংবা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ভূমিকা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত তার অন্যতম বড় উদাহরণ। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে গড় আয়ু ছিল প্রায় ৪৭ বছর। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে। আজ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সফল জনস্বাস্থ্য মডেল হিসেবে স্বীকৃত। এই পরিবর্তনের পেছনে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসএআইডি, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড পৃভেনশন (ঈউঈ) এবং আমেরিকার অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচি টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক পরিচর্যা, পুষ্টি, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ, ল্যাবরেটরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোগ নজরদারিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় আমেরিকা বাংলাদেশকে কোটি কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন ব্যবস্থা এবং কোটি ডোজ টিকা প্রদান করে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবের পেছনেও আমেরিকার অবদান উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতার পর খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি পৌছেছে। উচ্চফলনশীল বীজ, কৃষি গবেষণা, কৃষকের প্রশিক্ষণ, সেচ ব্যবস্থা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং বাজার ব্যবস্থা উন্নয়নে ইউএসএআইডির বিভিন্ন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ঋববফ ঃযব ঋঁঃঁৎব কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, আয় ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির খাত হিসেবে গড়ে তুলতেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিকভাবে একটি সফল উদাহরণ। কিন্তু এই সক্ষমতা এক দিনে তৈরি হয়নি। ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রস্তুতি এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নিরাপদ পানি, বিকল্প জীবিকা এবং দুর্যোগ ঝুকি হ্রাসে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এমন একটি ক্ষেত্র, যার প্রভাব পরিসংখ্যান দিয়ে পুরোপুরি বোঝানো যায় না। প্রতি বছর অসংখ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যান। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ, হিউবার্ট এইচ. হামফ্রি ফেলোশিপ, ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম (ওঠখচ) এবং অন্যান্য শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো বাংলাদেশি গবেষক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা এবং তরুণ নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের অনেকেই দেশে ফিরে শিক্ষা, গবেষণা, নীতি প্রণয়ন, প্রশাসন এবং বেসরকারি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই জ্ঞান স্থানান্তর দুই দেশের সম্পর্কের এমন একটি সম্পদ, যার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন।

নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নেও আমেরিকার সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রম অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে ইউএসএআইডি ও অন্যান্য আমেরিকান কর্মসূচি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় আমেরিকান সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিকাশেও আমেরিকার অবদান রয়েছে। ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পরেশন (উঋঈ), ইউএস ট্রেড এন্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (টঝঞউঅ) এবং আমেরিকার কৃষি বিভাগ (টঝউঅ) বিভিন্ন সময়ে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে আমেরিকান বাণিজ্য সংস্থা ও শিল্প সংগঠনগুলো বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ভূমিকা রেখেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সহযোগিতার চরিত্রও বদলাচ্ছে। এক সময় বাংলাদেশ আমেরিকার কাছে মূলত সহায়তা প্রত্যাশী দেশ ছিল। এখন দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে 'অরফ ঃড় ঞৎধফব', অর্থাৎ সহায়তানির্ভর সম্পর্ক থেকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধি নির্ভর অংশীদারত্বে রূপ নিচ্ছে। এই পরিবর্তনই আগামী দশকের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

এই বাস্তবতার মধ্যেই আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনের তাৎপর্য নিহিত। এটি শুধু অতীতের উন্নয়ন সহযোগিতার স্মারক নয়; বরং এমন এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত, যেখানে বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, মানবসম্পদ, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ। দুই দেশের দীর্ঘ পাচ দশকের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, টেকসই অংশীদারত্ব কেবল অর্থের বিনিময়ে তৈরি হয় না; এটি তৈরি হয় মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের প্রতি যৌথ আস্থার ওপর।

রাজু আলীম : কবি, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT