ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ই-কার চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিকল্প পরিবহনে নির্ভর রাবি শিক্ষার্থীরা

author
রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৬:৩০
ad003
শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে চলাচল সহজ করতে গত বছরের অক্টোবরে ১৫টি পরিবেশবান্ধব ই-কার চালুর ঘোষণা দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া)। এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি ই-কার চালু করা হয়। তবে চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই নানা সমস্যার কারণে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।

জানা গেছে, চালকদের লোকসান, প্রতিদিন নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পরও প্রত্যাশিত আয় না হওয়া, ভাড়া-সংক্রান্ত জটিলতা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলতি বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ই-কার সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ব্যবহৃত ই-কারগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের ব্যবস্থা রাজশাহীতে না থাকায় সেবাটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

ই-কার সেবা বন্ধ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রুয়া দ্রুত এটি পুনরায় চালুর আশ্বাস দেয়। সে সময় জানানো হয়, কোম্পানির কাছ থেকে ভাড়ায় ই-কার পরিচালনার পরিবর্তে এবার ই-কার কিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের অধীনে পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি রাজশাহীতেই যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়।

মার্চের শেষ সপ্তাহে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুয়া জানায়, ৪ এপ্রিলের মধ্যে ই-কার সেবা পুনরায় চালু করা হবে। তবে ঘোষিত সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো সেবাটি চালু হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসে চলাচলের জন্য বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত ই-কার সেবা চালু করা হলে ক্যাম্পাসে নিরাপদ, সহজ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফুয়াদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, "রাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ই-কার সেবাটি একটি মুখরোচক প্রকল্প হিসেবে চালু করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এর সেবার মান সন্তোষজনক ছিল না। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ই-কারের সংখ্যাও ছিল খুবই কম। অল্পদিনের মধ্যেই সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্যোক্তাদের দায়সারা মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।"

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ রাফিন আহমেদ বলেন, "যে কোনো সেবা চালু করার চেয়ে সেটিকে টেকসইভাবে পরিচালনা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র চার মাসের মাথায় সেবাটি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন না করা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাবের পরিচায়ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি নিয়মিত এ সেবা পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে না পারার যৌক্তিক কারণ নেই। কারিগরি ত্রুটি, চার্জিং স্টেশন বা স্পেয়ার পার্টসের সমস্যা থাকলে এত দিনে তার সমাধান হওয়া উচিত ছিল।"

রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, "ই-কার সেবা চালু বা বন্ধের বিষয়টি সম্পূর্ণ রুয়ার। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, "আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর রুয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আগে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেটিও আমার জানা নেই।

বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতার বিষয়ে উপ- উপাচার্য বলেন, "বিষয়টি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা না জেনে মন্তব্য করা কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব যানবাহন পরিচালনাতেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই ব্যয় ও সুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রুয়া কীভাবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করবে এবং পরিচালনার সক্ষমতা কী হবে, তা পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

রুয়ার সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, "আগের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে ই-কার চালুর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। আমরা ই-কারগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চাই। কিন্তু উপাচার্য পরিবর্তনের পর বিষয়টি নতুন প্রশাসনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশ সফরে যাওয়ায় এখনো তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে ই-কারগুলো দেখেছি এবং কোম্পানির সঙ্গে কথাও বলেছি। যেহেতু এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা হবে, তাই কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রয়োজন। প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে বিষয়টি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।"
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT