ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ হেফাজত থেকে জব্দ জাল ছিনিয়ে, ১১৬৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০০
ad003
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে হাওর থেকে জব্দ করা নিষিদ্ধ খনা জাল ও নৌকা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে সংঘবদ্ধভাবে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ১ হাজার ১৬৫ জন জেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় এ পর্যন্ত দুই জেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল পারভেজ বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১ হাজার ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন উপজেলার মাঘান কুড়েরপাড় এলাকার জাকির (২২) ও মামুন (২৪)। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের চারটি নিষিদ্ধ খনা জাল এবং দুটি নৌকা জব্দ করেন। 

জব্দকৃত আলামত তদন্ত কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরদিন রোববার দুপুরে কয়েকশ জেলে সংঘবদ্ধভাবে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে জব্দ করা জাল ও নৌকা নিয়ে যান। ঘটনার পর সোমবার হাওরে অভিযান চালিয়ে একটি খনা জাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান বলেন, "এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরে ৭৫ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনাগুলো বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয় জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তবে স্থানীয় জেলেদের দাবি, সরকারি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গত ২৮ জুন শেষ হয়েছে। ফলে তারা বৈধভাবে মাছ ধরার অধিকার ফিরে পেয়েছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে আরোপিত অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা অনীহা প্রকাশ করছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য, হাওরের দেশীয় মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নিষিদ্ধ খনা জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা পুলিশ হেফাজতে থাকা জব্দ আলামত ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT