ঢাকা | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যাকেটজাত খাদ্য নিরাপদ কি না; নিশ্চিত করতে লেবেল লাগানো জরুরি

লেবেল থাকলে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬
ad003
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে খাদ্যপণ্যের মোড়কে অবশ্যই লেবেল লাগানো জরুরি। লেবেলে খাদ্যে কি কি উপাদান আছে তা যেন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এতে করে মানুষ খাদ্যটি সর্ম্পকে জানতে বা বুঝতে পারবে। ক্রেতা তার শারিরীক অবস্থা বিবেচনা করে খাদ্য কিনবেন। এতে করে খাদ্যজাত সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হবে। 

মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান’ শীর্ষক এক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 

সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন সহজ করতে বাংলাদেশে দ্রুত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি বলে মতামত ব্যক্ত করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীরা। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের পুষ্টি তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য সহজে বোঝা যায় না। ফলে মানুষ অনেক সময় অজান্তেই অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করছেন। প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এফওপিএল-এর অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, বৈশ্বিক অগ্রগতি এবং বাংলাদেশে ভবিষ্যত কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এফওপিএল কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাংলাদেশেও জনস্বার্থে এ ধরনের নীতি প্রণয়নের এখনই উপযুক্ত সময়।

বাংলাদেশ সুপৃম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন, সঠিক ও সহজবোধ্য খাদ্য তথ্য জানা ভোক্তার মৌলিক অধিকার। কার্যকর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং সেই অধিকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় এবং বিদ্যমান ভোক্তা অধিকার আইনকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়ক হবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. আহমাদ খায়রুল আবরার বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনকে উৎসাহিত করে। সেই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের উপাদান আরো স্বাস্থ্যসম্মত করতে উদ্ধুদ্ধ করে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে আসে। 

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন বলেন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু তথ্য প্রচার নয়; বরং তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন ও জনআলোচনা সৃষ্টি, অনুসন্ধানী সংবাদ এবং ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে এফওপিএল বিষয়ে জনগণের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা এবং নীতিগত বিষয়গুলোকে জবাবদিহিমূলক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

উন্মুক্ত আলোচনায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রস্তাবিত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) বিধিমালার খসড়া বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনাধীন রয়েছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার এই পর্যায়ে প্রমাণভিত্তিক গণমাধ্যম প্রচার এবং সব অংশীজনের সমন্বিত অ্যাডভোকেসি ইতিবাচক জনমত সৃষ্টি ও নীতিগত অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হতে পারে।

কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে কার্যকর এফওপিএল বাস্তবায়নে ইতিবাচক জনমত গড়ে তুলতে এবং নীতিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে গণমাধ্যম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, যুব প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT