ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্রাইয়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট: ৭০ হাজার টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস

author
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:১০
ad003
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় আত্রাই নদীর জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছ রক্ষায় এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। আত্রাই উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৫টায় উপজেলার শুটকি গাছ ও রসুলপুর রাবার ড্রাম এলাকায় আত্রাই নদীতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান।

​অভিযান সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই নদীর দেশীয় মাছ রক্ষায় এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে আকস্মিক এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে পেতে রাখা ১টি ক্ষতিকর বের জাল এবং ১২টি রিং জাল জব্দ করা হয়।

​পরবর্তীতে জব্দকৃত জালগুলো প্রকাশ্য আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া উপজেলার শুটকি গাছা এলাকায় আত্রাই নদীতে অবৈধভাবে স্থাপিত সোতি জালের বিশাল বাঁশ-কাঠের অবকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ধ্বংসকৃত ও পুড়িয়ে ফেলা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

​উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের আত্রাই নদী এ অঞ্চলের মানুষের আশীর্বাদ এবং দেশীয় মৎস্য সম্পদের এক বিশাল ভাণ্ডার। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ বের জাল, রিং জাল এবং সোতি জালের অবকাঠামো তৈরি করে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি ছোট-বড় সব ধরনের মাছের পোনা নিধন করছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

​আমাদের এই অভিযান মূলত নদীকে অবৈধ দখল ও নিষিদ্ধ জালমুক্ত করার একটি অংশ। দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং নদীর জীববৈচিত্র্য ধরে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর ও জনকল্যাণমুখী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। নদী ও মাছ রক্ষায় আমরা কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।

​সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ বের জাল ও রিং জাল দিয়ে মাছ শিকার দেশের প্রচলিত মৎস্য আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বিশেষ করে সোতি জালের বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ আটকে ফেললে মাছের অবাধ প্রজনন ও বিচরণ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। আত্রাই নদীর মৎস্য সম্পদকে বাঁচাতে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।

মৎস্য সম্পদের ক্ষতি করে এমন যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান ও আইনি তৎপরতা কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। ​অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT