ঢাকা | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় শ্রদ্ধা, শোক ও প্রত্যয়ের আবহে পালিত হচ্ছে জুলাই শহীদ দিবস

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৭
ad003
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে নেত্রকোণায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে জুলাই শহীদ দিবস। 

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও পৃথকভাবে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছে।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এরপর শহরের মোক্তারপাড়া মোড় থেকে একটি শোক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা, কোরআনখানি ও গণভোজের আয়োজন করা হয়।

পরে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসকের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 
এতে উপস্থিত ছিলেন,  সদর-বারহাট্টা নেত্রকোণা-২ আসনের সাংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ারুল হক, জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. মোঃ নুরুজ্জামান নূরু, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম.কিবরিয়া চৌধুরী হেলিমসহ আরও অনেকেই।
এসময় নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, “জুলাইয়ের শহীদরা ন্যায়, গণতন্ত্র এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। 

তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে শুধু স্মরণানুষ্ঠান নয়, সততা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের আত্মত্যাগের ইতিহাস ও চেতনা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়াই হবে শহীদদের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ সম্মান।”

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের শহীদরা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

শহীদদের আদর্শ ধারণ করে দায়িত্বশীল, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের আত্মত্যাগের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরাও আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য গভীর প্রেরণার উৎস। তাঁদের স্মৃতির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। 

শহীদদের স্বপ্নের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের ত্যাগ ও আদর্শ জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT