নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে ধনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন পুড়িয়ে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খালিয়াজুরী উপজেলা প্রশাসন গাজীপুর ইউনিয়নের আন্দার গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাশে ধনু নদীর তীরে এঅভিযান চালায়। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের সময় হাতেনাতে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
আদালতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী আটক আবুল কাশেম (৪২) ও মো. মাফিজুল (২৪)-কে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কাশেম কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মো. সুরুজ আলীর ছেলে। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মাফিজুল একই জেলার মিঠামইন উপজেলার পুরান বগাদিয়া গ্রামের আবু কালাম মিয়ার ছেলে।
এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন পুড়িয়ে অকেজো করে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো ব্যবহার করে পুনরায় বালু উত্তোলন করা না যায়।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান বলেন, "ধনু নদীসহ উপজেলার কোনো নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু বা মাটি উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
যারা প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে ব্যক্তিস্বার্থে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নদী রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দেরও এ ধরনের অপরাধের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।"