বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতৃবৃন্দ বলেছেন আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুই আমেরিকা। আজ ১৭ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, বিকেলে সূত্রাপুরের লোহারপুল মোড়ে “সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য রুখে দাঁড়াও, আমেরিকার সাথে সর্বনাশা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করো। অর্থনৈতিক করিডোরের নামে অসম চুক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করা যাবে না। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও বন্দর রক্ষা করো” দাবিতে সিপিবি সূত্রাপুর থানা কমিটি আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি কমরেড বিকাশ সাহা। থানা কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বী খান, ছাত্রনেতা প্রিজম ফকির প্রমুখ।
কমরেড বিকাশ সাহা বলেন, আমেরিকার সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতিকে আরো বিপর্যস্ত করবে। করিডোরের নামে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে সরকার। আমেরিকা এশিয়াতে তার অধিপত্য আরো বিস্তার করতে চায়, তাই বাংলাদেশের বন্দর এবং ঘাটি করার জন্য তাদের জমি দরকার। নানান চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা তা বাস্তবায়ন করছে। এদিকে চীন ও ভারত বসে নেই, তারাও সক্রিয় হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পরতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারগুলো এসব সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর সাথে আঁতাত করছে ক্ষমতায় থাকার জন্য। তাদের পরিবারের দিকে তাকিয়ে দেখুন তাদের পরিবার বিদেশে থাকে, সেখানে পড়াশুনা করে তাদের সন্তানেরা। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, দেশের সংকটে তারা পলায়ন করবে আর আমরা দেশবাসী পরবো চরম অনিশ্চয়তায়। হয়তো আমাদের দেশটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র হতে যাচ্ছে। এখনই দেশবাসীকে সর্তক হতে হবে। এখনই দেশ রক্ষায় নামতে হবে।
গোলাম রাব্বী খান বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই আমেরিকা আমাদের বিরোধিতা করেছে, পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশেও তারা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। বিগত অন্তবর্তীকালিন সরকারের প্রধানসহ অনেক উপদেষ্টা আমেরিকার নাগরিক ছিল এবং তাদের সহযোগিতায় তারা অসম বাণিজ্যচুক্তি করেছে। এই চুক্তি দাসত্বের চুক্তি। এই চুক্তিতে আমরা দেখি আমেরিকার সাথে নতুন করে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি হবে ৬.২ বিলিয়ন ডলার। এই চুক্তিতে আমেরিকার কাছ থেকে বেশি দামে যন্ত্রাংশ, গমসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে যেসব পণ্য আমেরিকায় যায় তার শুল্ক বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে! এ কেমন চুক্তি? যে চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখা হয় নাই। কারা করলো এই চুক্তি? জনগণ বা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কি এই চুক্তি করেছে? না করেনি। হুট করে জনগণকে না জানিয়ে এই চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থ দেখা হয়নি। অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করতেই হবে।
অন্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশ এক সংকটে আছে। এই সংকট আরো ঘণিভূত করে দিচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। দেশের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় আজ দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যুদ্ধবাজ আমেরিকা মানবতার শত্রু আর এই শত্রুর সাথে কোন চুক্তি নয়, কোন বন্ধুত্ব নয়। অসম বাণিজ্যচুক্তি, করিডোর, সমুদ্রবন্দর বিদেশীদের কাছে ইজারা দেয়া, ট্রানজিটসহ দেশের স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে। দেশ বাঁচাতে জনগণকে সাথে নিয়ে লড়াই সংগ্রাম জরুরি হয়ে গেছে।