ঢাকা | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেড়ামারা হাসপাতালের ল্যাবে ভুল রিপোর্ট

author
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৬:১৭
ad003
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি ল্যাব থেকে ভুল রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন দিয়ে রোগীদের চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই ল্যাবের ভুল প্রতিবেদনের জেরে এক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ গ্রামের সাগর হোসেনের ২৩ মাস বয়সী শিশু আনাবিয়া পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নাসরিন আক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়া সন্দেহ করে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষায় শিশুটির প্লাটিলেট আসে ১ লাখ ৭৯ হাজার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানকার ল্যাবে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। কিন্তু সরকারি ওই ল্যাবের প্রতিবেদনে প্লাটিলেট মাত্র ৮৯ হাজার উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার বিষয়টি দেখে অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে রাজশাহী বা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে স্বজনরা পুনরায় বাইরের একটি ল্যাবে পরীক্ষা করালে প্লাটিলেট আসে ১ লাখ ৮৫ হাজার। পরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানকার চিকিৎসকদেরও সরকারি ল্যাবের প্রতিবেদনটি নিয়ে সন্দেহ হয়। সেখানে পুনরায় পরীক্ষা করালে শিশুটির প্লাটিলেট ১ লাখ ৯০ হাজার পাওয়া যায়। ভুল প্রতিবেদনের কারণে শিশুটির পরিবার চরম মানসিক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ভুল প্রতিবেদনের বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, ল্যাবের কর্মীদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের ২৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৯ জন কর্মরত আছেন।

সার্বিক বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে ভুল প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এর আগে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশনায় অনুপস্থিত দুই চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছিল বলেও জানান সিভিল সার্জন।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT