বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কেরানীগঞ্জের রিয়াজ হত্যার দুই বছরেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেইনি পুলিশ। এই মামলায় অল্প কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও অধরা রয়েছের মামলার বেশিরভাগ এজাহারভূক্ত আসামিরা।
২০২৪ সালের (১৯ জুলাই) বিকেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন কেরানীগঞ্জের ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র রিয়াজ উদ্দিন (২১)।
সেসময় গুলিবিদ্ধ রিয়াজকে প্রথমে আটি বাজারের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসা মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে যায়। লাশ পড়ে ছিল সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে। অনেক জায়গায় খোঁজার পর ২০ জুলাই বিকালে ওই হাসপাতালের মর্গে রিয়াজের লাশের সন্ধান পায় পরিবার
শহীদ রিয়াজ উদ্দিন হলেন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তারানগর ইউনিয়নের ছোট ভাওয়াল গ্রামের বাসিন্দা আসাব উদ্দিনের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল।
৫ই আগষ্ট সরকার পতনের পর রিয়াজ উদ্দিনের চাচা মোঃ রমজান আলী ওরপে শওকত (৫৬) বাদী হয়ে ২৬ আগষ্ট কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ৩১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী সহ আরও ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের প্রায় ৯মাস পর ২৫ সালের ২১ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ইলিয়াস হোসেন আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদনে জানান, রিয়াজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি রাজধানীর মোহাম্মদ থানা এলাকায় হওয়ায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে মোহাম্মদপুর থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ একান্ত প্রয়োজন।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বাদী মোঃ রমজান আলী গত বছর ১৫ জুলাই একই আসামিদের নামে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ আসামি গ্রেফতার ও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ব্যাপারে কোন অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবা উদ্দিন যায়যায়দিনকে বলেন,আমরা চেষ্টা করছি খুব দ্রুততম সময়ে আইনগত প্রক্রিয়াগুলো শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এবিষয়ে মামলার বাদী মোঃ রমজান আলী বলেন, আজ রিয়াজের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীর দিন। রিয়াজের স্মৃতি বিজড়িত ঘটনাগুলো বার বার মনে পড়ছে। রিয়াজের বাবা-মাসহ আমারা সকলেই আজ শোকাহত। তিনি আরও বলেন, রিয়াজ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করছি।