ইয়ামাল : আসসালামু আলাইকুম চাচা। নিশ্চয়ই ভালো আছেন।
মেসি : হ্যা, তুমিও নিশ্চয় ভাল আছো।
ইয়ামাল : জি চাচা। ১৯ বছর আগে আপনার কোলের শিশুটি আপনার প্রতিপক্ষ হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামবে। কি রোমাঞ্চকর ঘটনা!
মেসি : সত্যিই তাই। আমারও খুব ভালো লাগছে। জীবন সংগ্রামে যুদ্ধ করে তুমি ও আমি বার্সেলোনার মাধ্যমে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।
সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি!!
ইয়ামাল : একজন মানবিক মানুষ হিসেবে ইজরাইলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় ফিলিস্তিনে গণহত্যায় নারী পুরুষ ও শিশুদের জন্য আমার হৃদয় কেঁদেছে। এর প্রতিবাদে লা লিগে জয়ের পর ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে বিজয় উদযাপন করেছি।
মেসি : আমিও ২০১৩ সালে বার্সেলোনার হয়ে শান্তি সফরে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে যাই। ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত শিশুদের পাশে দাঁড়াই। কিন্তু আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের অতিমাত্রায় ইজরাইল প্রীতির কারনে আমাদের জনপ্রিয়তার ভাঁটা পড়েছে।
ইয়ামাল : যথার্থ বলেছেন।
মেসি : ২০১০ সালে আর্জেন্টিনা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার সাধারণ নির্বাচনে হাভিয়ের মিলেই বিজয়ের পর হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা দিয়ে ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন বিষয়ে আর্জেন্টিনা পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে এসে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে ভোট দেয়। ২০২৬ সালে ইরান যুদ্ধে ইজরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন হাভিয়ের মিলেই বলেন যে, " তিনি বিশ্বের জায়নবাদী অর্থাৎ উগ্র ইহুদিবাদী রাষ্ট্রপতি হতে পেরে গর্বিত।" যাহা আর্জেন্টাইন সহ সারাবিশ্বের মানবতাবাদীদের ব্যথিত করেছে।
ইয়ামাল : এক্ষেত্রে আমি সৌভাগ্যবান যে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার মানবতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিনে ইজরায়েলী হামলার নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতি ও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে স্পেন আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ের সাথে মিলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়ে ইজরায়েলের সাথে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করেন। এরই সাথে স্পেন ইজরাইলের কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইজরাইলের যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানায় স্পেন।
মেসি : বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয় এটি বৈশ্বিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের এক শক্তিশালী মাধ্যম। নানা মতভেদ ধর্ম ও বর্ণের সীমানা পেরিয়ে ফুটবল বিশ্বের মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে। কিন্তু আমেরিকা ও আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট সহ অনেকেই এই সত্য বুঝতে চায়না।
ইয়ামাল : ফিফার স্লোগান ' Unite for peace ' স্লোগানকে স্বার্থক করতে বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণকারী দল ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের জার্সিতে শান্তির বার্তা সম্বলিত প্যাচ ব্যবহার করে খেলে থাকি। খেলোয়াড় সমর্থক সকলেই শান্তির পক্ষে হলেও আনবিক শক্তিধর রাষ্ট্রপ্রধানদের ধ্বংসাত্মক ভূমিকা ফুটবল বিশ্বের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে।
মেসি : তুমি সহ অনেক ফুটবলারই খেলার মাধ্যমে মানবতাকে গুরুত্ব দিয়ে করা নানা কর্মসূচি বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছে।
ইয়ামাল : অথচ লা লিগা জয়ের পর বার্সেলোনার শোভাযাত্রায় ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে নাকি ঘৃণা উসকে দিয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন ইজরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ইজরায়েলি মন্ত্রীর এ বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন
‘একটি রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানোর বিষয়টিকে যাঁরা “ঘৃণা উসকে দেওয়া” বলে মনে করেন, তাঁরা হয় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছেন, নয়তো নিজের জঘন্য মানসিকতায় অন্ধ হয়ে গেছেন। লামিনে কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতিই প্রকাশ করেছেন, যা কোটি কোটি স্প্যানিশ নাগরিক মনেপ্রাণে ধারণ করেন। তাঁর জন্য গর্বিত হওয়ার এটি আরও একটি বড় কারণ।
মেসি : তোমাদের প্রধানমন্ত্রী যৌক্তিক বলেছেন। সত্যিই তোমরা একজন মানবতাবাদী রাষ্ট্রনায়ক পেয়েছো। আর এই কারনেই লা লিগা অর্থাৎ স্প্যানিস লীগ ফুটবলের তীর্থস্থান হিসেবে পরিগণিত হয়ে চলেছে।
ইয়ামাল : মানবতার বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রে পরিণত হলেও এর স্থায়িত্বকাল ক্ষণস্থায়ী। আর মানবতার পক্ষে কাজ করলে এর স্থায়িত্বকাল হয় দীর্ঘস্থায়ী। কেননা এই সৃষ্টিজগতের মালিক আল্লাহ্ বহু মানবতা বিরোধী শক্তিকে মূহুর্তে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন।
মেসি : মাত্র ১৯ বছর বয়সে তোমার চিন্তা ভাবনা আমাকে বিমোহিত করেছে। এগিয়ে যাও।
ইয়ামাল : আপনার ফুটবল শৈলী আমি অনুসরণ করি। আপনি অকপটে আপনার দেশের মানবতা বিরোধী প্রেসিডেন্টের গঠনমূলক সমালোচনা করে হৃদয় জুড়িয়ে দিয়েছেন। বার্সেলোনার অগ্রজ হিসেবে আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা।
মেসি : বার্সেলোনার অনুজ হিসেবে তোমার প্রতি রইলো অবিরাম ভালবাসা।
লেখক:
রাজিব আহসান চৌধুরী পাপপু
রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী