ছোট্ট গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে কদম ফুলের মতো দেখতে গোলাকার লোমযুক্ত লাল ফল। প্রথম দেখায় কদম ফুল মনে হলেও এটি বিদেশি ফল রাম্বুটান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর সীমান্তে হাজী আব্দুল বারীর মিশ্র ফলের বাগানে রয়েছে রাম্বুটান ফলের গাছ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিশাল বাগানে আম, কাঁঠাল, মাল্টা, লটকন, জাম্বুরা, রাম্বুটানসহ বিভিন্ন ফল গাছ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাম্বুটান লিচু পরিবারের একটি বিদেশি ফল। মালেয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় এর উৎপত্তি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে এটি চাষাবাদ হচ্ছে। আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের একজন কৃষক রাম্বুটান চাষ করছেন। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এতে আছে ভিটামিন সি, এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার।
কথা হয় বাগানের মালিক হাজী আব্দুল বারীর সঙ্গে। তিনি জানান, রাম্বুটান মূলত মালয়েশিয়ার ফল। তবে বর্তমানে বাংলাদেশেও এর চাষ হচ্ছে। সাত বছর আগে নরসিংদী থেকে কয়েকটি চারা এনে বাগানে রোপণ করেন তিনি। এ বছর প্রথমবারের মতো চারটি গাছে ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি করে ফলন হয়েছে। ফলটি খুব মিষ্টি। খোসা ছাড়ালে ভেতরে সাদা রসালো আঁশ, যা খেতে খুব সুস্বাদু।
তিনি বলেন, প্রতি কেজি রাম্বুটান ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রির আশা করছেন। সব মিলিয়ে এবার এক লাখ টাকার বেশি বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
হাজী আব্দুল বারীর মতে, একটি পরিবারের বাড়িতে তিন থেকে চারটি রাম্বুটান গাছ থাকলেও তা থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।
বাগানের ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রাম্বুটান চাষে বাড়তি কোনো বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে সহজেই ভালো ফলন পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ রানা বলেন, রাম্বুটান লিচু পরিবারের একটি বিদেশি ফল। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এতে আছে ভিটামিন সি, এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার। আখাউড়ায় একজন কৃষক রাম্বুটান চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষককে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।