ঢাকা | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মধুপুরে আত্মগোপনে গড়েছে মাদকের স্বর্গ রাজ্য

ট্রাকের হেলপার থেকে কোটিপতি শহিদুল হাওলাদার ঝালকাঠি থেকে বি- বি- বাড়িয়া

author
মধুপুর( টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৪
ad003
ট্রাকের হেলাপার থেকে কোটিপতি। গড়েছে মাদক ব্যবসার জমজমাট একছত্র বাণিজ্য। আধিপত্য বিস্তার করে কামাচ্ছেন কাড়ি কাড়ি কালো টাকা। এমন অভিযোগ উঠেছে শহিদুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে। সে এখন টাঙ্গাইলের মধুপুরে আত্ম গোপনে রয়েছে বলে একাধিক সূত্র তথ্য নিশ্চিত করেছে। 
 
তাকে কেউ মাদক ব্যবসায়ী, কেউবা আবার মাদক কারবারি হিসেবে চিনে জানে।  তার নাম শহিদুল হাওলাদার।  বয়স আনুমানিক ৪২ বছর। সে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাট গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। তার ব্যবহারকারী ঠিকানা হিসেবে বর্তমান চালিয়ে যাচ্ছে বি- বাড়িয়া জেলার সদর থানার শরীফপুর গ্রাম হিসেবে। বসবাসের ঠিকানায় লিখেন সদর উপজেলার ফরিদ মিয়ার বাড়ি। বিবাড়িয়া ও ঝালকাঠিতে মামলা থাকার কারণে এখন গোপন আইন প্রয়োগকারি সংস্থা, গোয়েন্দা সাংবাদিক সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অবস্থান নিয়েছে টাঙ্গাইলের মধুপুরের বোয়ালী গ্রামে। 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  শহিদুল হাওলাদার নামের এই লোক গত দুই বছর মত সময় ধরে টাঙ্গাইলের মধুপুরের বোয়ালী গ্রামে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছে অপরিচিত হিসেবেই চলাফেরা করে। কারো সাথে তেমন মিশে না। স্থানীয়তের চোখে দেখা দেয় সন্দেহ। খোঁজ নিতে থাকে তারা। পৌর শহরের বোয়ালী গ্রামের সড়কের পাশেই নিপুন পোল্ট্রি ফিডের মালিক আকবর হোসেনের বাসায় ভাড়া থাকে। মাঝে প্রাইভেট কারের সে চলাফেরা করে থাকে। কয়েক দিন পর পর কোথায় যেন যায়। আবার আসে। এভাবেই চলাচল করে থাকে। গতিবিধি সাধারণ। মানুষের নজড়ে আসলে বেড়িয়ে আসে তার মাদক কারবারের ভয়ানক কাহিনি। তার নামে টাঙ্গাইলের কালিহাতি, ঢাকা, নারায়ণ গঞ্জসহ সারা দেশের প্রায় ১২ টির অধিক মামলার আসামি এমন তথ্য বেড়িয়ে আসতে শুরু করে। 

মামলার বিবরণে দেখা যায়,  ঢাকায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ র্যাবের হাতে আটক হন। টাঙ্গাইলের কালিহাতি  থানা পুলিশের অভিযানে তার ব্যবহারকারি গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ গাঁজার মামলা হয়। এভাবে সারা দেশে তার নামে প্রায় ১২ টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কাগজপত্র স্থানীয় হাতে আসলে দেখা দেয় হইচই।  বোয়ালীর আশপাশের কিছু লোকজনের সেল্টার পাওয়ার জন্য অনেক টাকা পয়সা ছিটাচ্ছে।কিছু মাদক কারবারি তার সহযোগিতার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
 
তবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এখনও বিষয়টি জানে না। আত্মগোপনে থাকা এ হাওলাদার তিনি মাছের হাঁসের ব্যবসা করেন বলে জাহির করে। তবে তার খামারে নাম মাত্র কয়েকটি হাঁস আর অল্প কিছু মাছ চাষ করে। তা দিয়ে বিলাশ বহুল জীবন যাপন করা সম্ভব না বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে অনেকেই মনে করছে যমুনা সেতু হয়ে রাতের আঁধারে মাদক চলে আসতে পারে। যা নিরাপদ সড়ক হিসেবে টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ সড়ক ব্যবহার কে থাকে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এক সময় মধুপুরে মাদকের এমন ছড়াছড়ি ছিল না। কয়েক বছর যাবত আনাচে কানাচে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা এই মাদক সম্রাট মধুপুরে আসার পর থেকেই মাদকের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হচ্ছে। 

চাপড়ির এলাকার মনির খান (৪২) নামের একজন জানান, হাওলাদার কিছুদিন গারো বাজার ভাড়া থাকত। তখন তাকে দেখেছেন।  এখন স্থান পরিবর্তন করে নিরিবিলি বোয়ালীর এক বাসায় ভাড়া থাকে। 

স্থানীয় এক সাংবাদিক শহিদুল হাওলাদারের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তবে ঐ সাংবাদিক তার মাদক  মামলার বিষয়ে কথা উঠালে তিনি বলেন এক সময় মাদকের ব্যবসা করতো। এখন আর মাদকের ব্যবসা করে না বলে হাওলাদার জানান। 

তিনি আরো বলেন, মানুষ কি ভালো হতে পারে না? তার নামে মামলা থাকলেও সে আর মাদকের ব্যবসা করে না।  তবে স্থানীয় ধারণা এত দূরের মানুষে কেন সে গোপনে এখানে এসে ভাড়া থাকবে?  নেই চাকরি।সে কোন আত্মীয় স্বজন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। 

কাঠালিয়ার পাটিখালঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রঞ্জু আকতারের স্বামী হেলান উদ্দিন বলেন, শহিদুল হাওলাদারের নামে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানায় মামলা রয়েছে। বাড়িতে তার বাবা ভাই ও ছেলেরথাকে। সে এখন কোথায় থাকেন তা বলতে পারেনি। 

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানার ওসি রায়হান জানান, কাঁঠালিয়া থানায় বিভিন্ন জেলায় তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে ওয়ারেন্ট আছে কিনা?  জানতে চাইলে বলেন তথ্য দেয়ার নিয়ম নেই। তবে মধুপুর থানার ওসি চাইলে বিষয়টি দেখা যাবে। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT