টেকনাফ পৌরসভায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের সহযোগীতায়, খাদ্য অধিদপ্তর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে, অসহায় গরীব দুঃস্থ পরিবারের মাঝে সরকারীভাবে কম খরচে চাল ও আটা বিতরণ উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০ টায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিশেষ সহযোগিতা হিসেবে ইসলামাবাদ পশু হাসপাতাল মোড়ে আব্দুর রহিম মুন্না ও চানু আমতলা ফরিদ আহমদের ওএমএস কেন্দ্রে চাল ও আটা বিতরণ উদ্বোধন হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. হাসান সিদ্দিকী, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র বিএনপি নেতা হাসান আহমেদ।
এদিকে উপকারভোগীরা সেবা পাচ্ছে কিনা বা কোন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে কিনা খোঁজখবর নিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন টেকনাফ উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল হাবিব ভূইয়া।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্যাগ অফিসার মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শহীদুল আলম, ট্যাগ অফিসার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের কার্য্য সহকারী মোহাম্মদ সোহেল, টেকনাফ উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরে কর্মরত সহকারি উপ খাদ্য পরিদর্শক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, জান্নাত-মান্নাত সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ মামুন, ডিলার ফরিদ আহমদ, ডিলার আব্দুর রহিম মুন্না, ছাত্রনেতা তারেক আহমদ সাগর সহ সংশ্লিষ্ট ওএমএস কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসারগণ।
পৌরসভার ওএমএস কেন্দ্র স্পটগুলো হল পুরান পল্লান পাড়ার ডিলার মোঃ সেলিম কোম্পানীর কেন্দ্র, কুলাল পাড়ার ডিলার খুরশিদ আলমের কেন্দ্র, জেলা পরিষদ মার্কেটের ডিলার মোঃ ছাবেরের কেন্দ্র, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের দক্ষিণে ডিলার ফরিদের কেন্দ্র, ইসলামাবাদ পশু হাসপাতাল মোড়ে ডিলার আব্দুর রহিম মুন্নার কেন্দ্র, পুরাতন বাস স্টেশনের চানু আমতলাস্থ ডিলার ফরিদ আহমদের কেন্দ্র।
উপকারভোগী আকাশ বলেন, আমরা অভাবের কারণে চাল কিনতে না পারায় ৩ বেলা ভাল করে খেতেও পারতাম না। এখন সরকারিভাবে কম টাকায় চাল পেয়ে কোনমতে ৩ বেলা খেতে পারছি।
আছিয়া খাতুন নামে এক উপকারভোগী বলেন, বাজারে আটার দাম বেশী। কম টাকায় সরকারিভাবে আটা পাওয়ায় বেশী টাকায় বাহির থেকে আটা কিনতে হচ্ছেনা যার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।
টেকনাফ উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল হাবিব ভূইয়া বলেন, আবারও ওএমএস চালু হয়েছে। কম খরচে প্রতিদিন ২টি কেন্দ্রে ১ মেঃ টন করে মোট ২ মেঃ টন চাল এবং ৫০০ কেজি করে ১ মেঃ টন আটা বিক্রি করা হবে। একজন গ্রাহক ৩০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল এবং ২৪ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ৫ কেজি আটা ক্রয় করতে পারবেন।
আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব হল জনসাধারণকে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। পৌরসভার আওতাধীন ৬টি পয়েন্টে সরকারীভাবে আবারো বিশেষ চাল ও আটা বিতরণ শুরু হওয়ায় ধারাবাহিকভাবে সরেজমিনে সকল কেন্দ্রে গিয়ে চাল ও আটা বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করছি।জনসাধারণ সেবা পাচ্ছে কিনা সেটা দেখতে সকাল থেকে এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে ছুটে চলছি। ট্যাগ অফিসারদের উপস্থিতিতে, প্রতি সপ্তাহের শুক্র, শনিবার ও সরকারীভাবে বন্ধের দিন ছাড়া আইডি কার্ড নিয়ে যেকোন ওএমএস পয়েন্ট থেকে দৈনিক ১ বার চাল ও আটা নিতে পারবেন। সুশৃঙ্খলভাবে অপেক্ষা করে চাল ও আটা সংগ্রহ করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম অনীক চৌধুরী বলেন, সরকারের সহযোগিতায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের সহযোগিতার অংশ হিসেবে কম খরচে চাল ও আটা বিতরণ শুরু হয়েছে। সেবা নিতে গিয়ে উপকারভোগীদেরকে হয়রানী করা সহ কোন ওএমএস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।