নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে সরকারি হালট দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় এক শতক সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে হাজারো এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৷
সোমবার (২০ জুলাই) প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী । এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, মাসকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, কানুনগো, সার্ভেয়ার, নাজিরসহ স্থানীয় গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ২৮ জুন রায়পুর গ্রামবাসীর পক্ষে শরিফ হাসান ভূঁইয়া রায়পুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৬৬৯ নম্বর দাগে অবস্থিত সরকারি হালট পরিমাপের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। পরবর্তীতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের পরিমাপ ও তদন্তে হালটের একটি অংশ অবৈধভাবে দখলের সত্যতা পাওয়া যায়।
এদিকে, ৩০ জুন রায়পুর জিপিএস থেকে সুচিয়া বিল পর্যন্ত রাস্তা কর্তনের অভিযোগে তাইনুস শাহী ও অন্যান্যরা একটি আবেদন করেন। তদন্তে জানা যায়, স্থানীয় গ্রামবাসীরা নিজেদের চলাচলের সুবিধার্থে সরকারি হালটের ওপরের অংশের মাটি সরিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেন। এ সময় তাইনুস শাহীর স্থাপনার কিছু অংশ সরকারি হালটের মধ্যে পড়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সরেজমিনে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রায় এক শতক সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন হালটটি বেদখল থাকায় হাজার হাজার মানুষ চলাচলে ভোগান্তির ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন। হালটটি দখলমুক্ত হওয়ায় তাদের মাঝে অস্থির ফিরে আসে ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
গ্রামবাসীর পক্ষে আবেদনকারী শরিফ হাসান ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও অবৈধভাবে দখলকৃত সরকারি হালট পুনরুদ্ধার করায় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের ইউএনও ও এসিল্যান্ড মহোদয়কে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে মাননীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীকেও ধন্যবাদ জানাই, তিনি রাস্তাটি সরকারি উদ্যোগে পাকা করার জন্য সুপারিশ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত ও পরিমাপের মাধ্যমে সরকারি হালটের অবৈধ দখল চিহ্নিত করে আইনানুগভাবে তা উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।