কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি রিজার্ভ এলাকার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি ছড়া ও পাহাড় কেটে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টৈটং বিট অফিসের পশ্চিম পাশে জামাল কন্ট্রাক্টর, ঝুমপাড়া এলাকায় জয়নাল ও নজরুল, রিদুয়ান, কাশেম মেম্বার, ফজলু মাঝি এবং পূর্ব মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় আবদুর রহিমসহ কয়েকজন ব্যক্তি মেশিন বসিয়ে পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া টৈটং সীমান্তবর্তী পুইছড়ি বিটের অধীন ঝুমপাড়া সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায়ও একাধিক মেশিনে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইতোমধ্যেই পাহাড়ি ঢল ও সাম্প্রতিক বন্যায় টৈটংয়ের হাজারো মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। এমন পরিস্থিতির পরও ঝুঁকির বিষয়টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এসব পয়েন্টে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে এসব কার্যক্রম চললেও টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব এবং ঝুমপাড়া সীমান্তের পুইছড়ি বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাদের এই নীরবতা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং সংশ্লিষ্টদের অদৃশ্য নীরবতার সুযোগে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিদের মতে, পাহাড়ি ছড়া ও পাহাড় কেটে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস, ভূমিক্ষয়, আকস্মিক বন্যা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান জানান, টৈটংয়ে একটি অভিযান চালানো হয়েছে। মেশিন জব্দ করা হয়েছে। বাকি যেই সমস্ত পয়েন্টে বালু উত্তোলন চলছে সবখানে অভিযান চালানো হবে।
এ বিষয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।