ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে সড়কে বেদখল জমি উদ্ধারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ৭ দিনের মধ্যে আদালকে জানানোর নির্দেশ

author
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪
ad003
সুনামগঞ্জ জেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মালিকানাধীন বেদখল হওয়া সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেবার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন ঠিক কী পরিমাণ জমি অবৈধ দখলে রয়েছে এবং উক্ত জমি উদ্ধারে কী প্রতিকার বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছক মোতাবেক প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তির নিরঙ্কুশ দখল নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে এই নির্দেশ দেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী। রোববার ইস্যুকৃত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিভিন্ন সময় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে একটি ভূমি দখলকারী চক্র সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল বা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তারা দেওয়ানি আদালতে মামলা করে অবৈধ দখল বজায় রাখার চেষ্টা চালায় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করে, যার ফলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়।

চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন, ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এবং অন্যান্য আইন অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি বেআইনি ও অবৈধ দখল রাখা বা দখলের চেষ্টা একটি ফৌজদারি অপরাধ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার পাশের ভূমির আর্থিক মূল্য অধিক। কতিপয় ভূমি দখলকারি বিভিন্ন অজুহাতে অবৈধভাবে দখল করেছে অথবা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও আইন অনুযায়ী তাদের পক্ষে প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বদলিজনিত জটিলতার কারণে যথাসময়ে আইনি প্রতিকার নেওয়া সম্ভব হয় না। 

প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ পৌরবাসীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সহজ করতে শহরের ভেতরের ৪ কিলোমিটার সড়ক ২ লেন থেকে ৪ লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। হাছনরাজার তোরণ থেকে আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এখন মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের শুরুতে কাজের গতি থাকলেও সময়ের সাথে সাথে ধীরগতিতে রূপ নিয়েছে। এই সড়কের পাশের অনেক জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছে প্রভাবশালীরা। এই কারণে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজও বিলম্বিত হচ্ছে। 

শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুরাতন বাস—স্টেশন এলাকা। যানবাহন ও মানুষের চাপ থাকে সব সময়। বিশেষ করে রাতে যখন দূরপাল্লার বাস ঢুকে শহরে তখন এই চাপ আরও বেড়ে যায়। যার কারণে শহরের একমুখী এই সড়কে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। চলমান চার লেনের কাজের জন্য এই সড়ক খোঁড়া হয় প্রায় ছয় মাস আগে জানুয়ারির শেষ দিকে। খেঁাড়াখঁুড়ির ছয় মাস পেড়িয়ে গেলেও নির্মিত হয়নি চার লেনের একটি লেনও। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় চলছে যানবাহন। বৃষ্টি হলে ছোট ছোট গর্তে জমাট বাঁধে পানি,  ঘটে দুর্ঘটনা। খানাখন্দে ভরপুর ভাঙা সড়কের কারণে কমে যায় গাড়ির গতি, লেগে থাকে জট। সময় ও শ্রম লাগে বেশি।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ্ বললেন, আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের চিঠি এখনো পাই নি। পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT